গত এক বছরে ৫৮৭টি গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন করেছে আমেরিকান ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি (অ্যালায়েন্স)। পরিদর্শনে ঝুঁকির বিবেচনায় এ সব কারখানার মধ্যে ১৪টি কারখানা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। বাদবাকি ৫৭৩টি কারখানার সবগুলোতেই কমবেশি ত্রুটি রয়েছে। এ সব কারখানার প্রতিটি সংস্কারে গড়ে আড়াই লাখ মার্কিন ডলার করে খরচ করতে হবে। সেই হিসেবে এসব কারখানা সংস্কারে খরচ হবে ১৪ কোটি ৩২ লাখ ডলার বা ১১০৩ কোটি টাকা। আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে এ প্রাক্কলনের কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, কারখানা সংস্কারে ১০ কোটি ডলারের তহবিলের পর ২২ টি ব্র্যান্ড মিলে স্বল্প সুদে আরো ২ কোটি ডলার ঋণ দেবে। আর কারখানা পরিদর্শনে বন্ধ হওয়া কারখানার শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী ৪ মাসের বেতনের মধ্যে অর্ধেক অর্থ অ্যালায়েন্স দেবে বলেও ঘোষণা দেয়া হয়।
অ্যালায়েন্সের বাংলাদেশ অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবিন ছাড়াও অ্যালায়েন্সের সিইও ইয়ান স্পলডিং এ সময় বক্তব্য রাখেন। গত এক বছর আগে থেকে আমেরিকা ভিত্তিক ২৬টি ক্রেতা ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে প্রায় ৬০০ কারখানা পরিদর্শনে এ জোট গঠন করা হয়। ৫ বছর বাংলাদেশের কারখানার মানোন্নয়নে কাজ করবে অ্যালায়েন্স। গত এক বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে গতকাল এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় এ জোটের পক্ষ থেকে।
রানা প্লাজা ধসের পর ইউরোপের ক্রেতাদের সমন্বয়ে অ্যাকর্ড নামে অন্য একটি জোটও আলাদা প্লাটফর্মে কারখানা পরিদর্শন করছে। ওই জোটের প্রায় ১৭০০ কারখানা পরিদর্শন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন করা কারখানার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওইসব কারখানা অ্যাকর্ড আবার (যে কারখানায় অ্যাকর্ডেরও ক্রেতা রয়েছে) পরিদর্শন করা শুরু করেছে। এ নিয়ে উভয় জোটের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে মেসবাহ রবিন বলেন, সংস্কারেরর মানদণ্ড বুঝতে হয়তো তাদের সমস্যা হয়েছে। অথবা বিষয়টি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন মান নিখুঁত এবং আস্থাশীল। তবে এ বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সমাধান হবে আশা করে তিনি বলেন, পরিদর্শন মান প্রশ্নে সৃষ্ট মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা চলছে। অ্যাকর্ড তাদের কিছু পরিদর্শন প্রতিবেদন দেখতে চেয়েছ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক বছরে অ্যালায়েন্স ৫৮৭টি কারখানা পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে ১৪টি কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। বাদবাকী ৫৭৩টি কারখানার প্রত্যেকটিতেই কমবেশি ত্রুটি রয়েছে। এ সব কারখানায় গড়ে ৪৫ ধরনের ত্রুটি রয়েছে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক এবং অগ্নি নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিই বেশি। ত্রুটি চিহ্নিত কারখানা সংস্কার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক কারখানার সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কারখানার সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পোশাক খাত কমপ্লায়েন্ট (কর্মপরিবেশ) হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
এ ছাড়া এর ফলে জিএসপি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থগিত হওয়া জিএসপি ফিরে পাওয়া যাবে বলেও জানান মেসবাহ রবিন। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিষয়। এ বিষয়ে অ্যালায়েন্স বক্তব্য দিতে পারে না।
ইঅ/চৌফে/শ৪২৭