দেশের শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার গতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মন্থর হয়ে যাচ্ছে। কৃষি নির্ভরতা থেকে টেকসই শিল্পায়নে রূপান্তরের গতি কমে যাওয়ায় মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট দেশজ উত্পাদনে শিল্পখাতের অবদান যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৭৫, ১৮ দশমিক ২৮, ১৯ এবং ১৯ দশমিক ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে উক্ত খাতের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৮ দশমিক ৬৮, ১০ দশমিক ৩১, ৯ দশমিক ৯৬ এবং ১০ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এসব কথা বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি খাতের উপর ব্যাপক নির্ভরশীলতার পাশাপাশি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অভাব, কম মূলধন, রপ্তানিতে বৈচিত্রের অভাব, অদূরদর্শী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব দেশে শিল্পখাতের উন্নয়নের অন্তরায়। শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার গতি কমা সত্ত্বেও জিডিপিতে শিল্পখাতের ক্রমবর্ধমান অবদানের দিকে লক্ষ্য রেখে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দেখায় যে ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে জিডিপিতে এই খাতের অবদান ছিল ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেড়ে ২৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য বিদ্যুত্, গ্যাস, ও পানি সমপদ খাতে সামপ্রতিক সময় এ প্রবৃদ্ধির হারের ক্রমহ্রাসমান প্রবণতার দিকে দৃষ্টি দিয়ে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উক্ত খাতে যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৫৬, ১০ দশমিক ৫৮, ৮ দশমিক ৯৯ এবং ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান থাকলে এই খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে যা খাতটিতে প্রবৃদ্ধির হার আরো কমিয়ে দিতে পারে।
অর্থনীতিতে শিল্প খাতের মূল্য সংযোজন পরিমাপের জন্য ব্যবহূত উত্পাদনের কোয়ান্টাম ইনডেক্স এর উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছর থেকে ২০০০-০১ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থনীতিতে মাঝারি ও বৃহত্ শিল্পের মূল্য সংযোজন এর পরিস্থিতি সামপ্রতিক সময়ের চেয়ে তুলনামুলকভাবে ভাল ছিল। যা সামপ্রতিক সময়ের শিল্পখাতের অসন্তোষজনক কর্মক্ষমতাকে নির্দেশ করে। সামপ্রতিক সময়ের শিল্প ঋণের কম বিতরণ খুব কম। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে শিল্প ঋণ বিতরণের পরিমান কমে গিয়ে ৯ হাজার ২৮৩ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। যা একই অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে যথাক্রমে ১০ হাজার ৫১৩ ও ১২ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা ছিল। ফলে সাময়িক শিল্প ঋণ বিতরনের প্রবৃদ্ধির হার উক্ত অর্থবছরে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ঋণাত্নক ৮ শতাংশ হয়েছে। যা একই অর্থবছরে অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ৬.৮৮ শতাংশ ছিল। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদোক্তা ঋণের পরিমাণ মার্চ ২০১৪ তে এসে ১১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা ডিসেম্বর ২০১৩ থেকে ১ হাজার ৩০১ কোটি টাকা কম। ফলে ডিসেম্বর ২০১৩ এর ৬.৭১ শতাংশ থেকে কমে গিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধির হার মার্চ ২০১৪ তে ঋণাত্মক ১ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে।
ইঅ/চৌফে/শ৪০৪