চোখের সমস্যায় দেশের ৭০ ভাগ গাড়ি চালক

৭০দশমিক ৪ শতাংশের অধিক চালক দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগে। ঢাকা শহরের ৮টি বাস ও ট্রাক টার্মিনালের গণপরিবহন চালকদের চোখের স্বাস্থ্যের অবস্থা সর্ম্পকিত এক গবেষণায় এমন তথ্য প্রকাশ পায়। বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবিক সাহায্য সংস্থার (এমএসএস) ‘আই কেয়ার প্রজেক্ট’-এর আওতায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনা বৃদ্ধিমূলক গবেষণা পরিচালনা করে। গতকাল শনিবার প্রতিষ্ঠানে পান্থপথের কার্যালয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই গবেষণার ভিত্তিতে আজ ও আগামীকাল তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালে চক্ষু ক্যাম্প করে নামমাত্র ব্যয়ে চক্ষু চিকিত্সা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমএসএস-এর সভাপতি ফিরোজ এম হাসান, উপদেষ্টা তারেক-উল গনি, সহকারী পরিচালক স্বপ্না রেজা এবং আল বাসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর জেনারেল ডা.আহমেদ তাহের হামিদ আলী।

ফিরোজ এম হাসান মনে করেন, নগর জীবনে সড়ক দুর্ঘটনা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌেঁছ গেছে। তিনি বলেন, অনেক অকাল ও মূল্যবান প্রাণের অবসান ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে। সড়ক দুঘটনা চালকের চোখের স্বাস্থ্য ও তার শিক্ষা ভূমিকা রাখে। তাই আমরা গণপরিবহনের চালকদের চক্ষু স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করি। চোখের স্বাস্থ্যের সাথে ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর সম্পর্ক থাকায় গবেষণা করতে নানা রকম প্রতিবন্ধকতায় পড়েন বলে জানান তিনি।

তাই চালক ও মালিক সংগঠনগুলোর সদস্যদের ৫০০ জনকে নানা রকম প্রশ্নের মাধ্যমে গবেষণা কার্যকম পরিচালনা করা হয়। চলতি বছর ১ হতে ২০ জানুয়ারি এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তারেক-উল গনি জানান, চালকদের অনেকেই জানেন না তাদের কোনো চক্ষু সমস্যা আছে কিনা। ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশ চালক উভয় চোখের সমস্যায় ভুগছেন। ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ পাওয়ার চশমা ব্যবহার করেন, ৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ কোনো চশমা ব্যবহার করেন না এবং ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ সানগ্লাস ব্যবহার করেন। গবেষণামতে ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ চালকের মোবাইলের লেখা ও পত্রিকা পড়তে সমস্যা হয়। ৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ চালক জানান, গাড়ি চালনার সময় তাদের রোড সাইন বা সাইন বোর্ড পড়তে সমস্যা হয়। জরিপকৃত ২৬ দশমিক ২ শতাংশ চালক জানান, চোখের সমস্যার জন্য চিকিত্সকের কাছে গিয়েছেন। ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ চালক চোখের সমস্যার জন্য কখনো চিকিত্সকের কাছে যাননি।

উল্লেখ্য এমএসএসএর ‘আই কেয়ার প্রজেক্ট’ তেজগাঁও ও সায়দাবাদ টার্মিনাল এলাকায় দুই দফায় চক্ষু চিকিত্সায় পাইলটিং প্রজেক্ট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে। এতে ৫০০ চালককে ব্যয়ে, (মাত্র ১৫০০ টাকায়) চোখের ছানি অপসারণসহ প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা    দেওয়া হবে।