রিভিউয়ের আগেই প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ!

পনেরো বছর ধরে আছেন কনডেম সেলে। প্রাণভিক্ষা চেয়ে করা আবেদন নাকচ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিন বছর আগে নিম্ন আদালত থেকে যায় মৃত্যুপরোয়ানা। ধার্য করা হয় ফাঁসি কার্যকরের দিন। এ অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনঃবিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি রাজশাহীর রকিবর ওরফে ওকিবর। ওই আবেদনের পর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি ওই রিভিউর। রিভিউ নিষ্পত্তির আগেই নাকচ হয়ে যায় প্রাণ ভিক্ষার আবেদন। এটা নজরে আসায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন চলতি মাসে আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তির পরেই কারা কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল আসামির প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো। এ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, আদালতের সকল পর্যায়ের বিচার শেষ হওয়ার পরেই প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো উচিত। এ কারণে বলছি যে, রিভিউর উপর আপিল বিভাগ ভিন্নতর কোন আদেশ দিলে সেটা এখন কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচের পরেও আসামির রিভিউর অধিকার খর্ব হয়নি। এর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিষয় জড়িত।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন বলেন, আপিল বিভাগ কর্তৃক আপিল খারিজের পরই আসামির প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রিভিউ পিটিশন দাখিলের কোন তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। তবে রকিবরের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন পাঠানোর সুযোগ নেই। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছি। রিভিউ নিষ্পত্তির পর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে তখন রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে। হয়তবা এখানে কোন বিষয় গোপন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে আসামিকে রিভিউ পিটিশন করতে হয়। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে দিতে হয় বিলম্ব মার্জনার দরখাস্ত।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার  দায়ে নিম্ন ও উচ্চ আদালত কর্তৃক রকিবরকে দেয়া মৃত্যুদণ্ড ২০১৫ সালের ১২ মে বহাল রাখে আপিল বিভাগ। মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আপিল বিভাগ বলেছে, ওই কিশোরীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা ছিল অত্যন্ত ঘৃণ্য, বর্বর ও নির্মম প্রকৃতির। এ ধরনের অপরাধের দায়ে অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া হয় তাহলে বিচারকে অস্বীকার করা হবে। আসামি যে অপরাধ করেছে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে মৃত্যুদণ্ডই তার একমাত্র প্রাপ্য। ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি আসামি পক্ষ এই রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পান। ঐদিনই কারাগারে পৌঁছে আসামির মৃত্যু পরোয়ানা। পরদিনই আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়। রিভিউর প্রেক্ষিতে ঐ বছরের ৩১ জানুয়ারি মৃত্যুদন্ডের রায় স্থগিত করে চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে ওই বছরের ৭ মার্চ শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষের চিঠি

২৯ জানুয়ারি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া চিঠিতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রাণভিক্ষার আবেদন ইতিপূর্বে না মঞ্জুর হওয়ায় দণ্ড প্রদানকারী নিম্ন আদালত হতে ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি ওয়ারেন্ট অব এক্সিকিউশেন (মৃত্যু পরোয়ানা) পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী কারা বিধির প্রথম খণ্ডের ৯৯১ ধারা মোতাবেক ২১ দিনের কম নয় ২৮ দিনের বেশি নয় সময় হিসেবে রকিবরের ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রিভিউ দাখিলের একটি প্রত্যয়ন আসে। ওই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা অবহিত করতে অনুরোধ করা গেলো।