ঢাকার চকবাজারে গত বুধবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সৈয়দ খবির উদ্দিন নাহিদ, হোমনার কাউসার আলম এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শাহাদাত হোসেন সরকারের স্বজনদের আহাজারি যেন থামছে না। গত শুক্রবারের মধ্যেই নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে এই তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়। তবে শত শত উত্সুক জনতা গতকাল শনিবারও তাদের বাড়িতে ভিড় জমান।
চৌদ্দগ্রামের খবির উদ্দিন নাহিদ: সর্বনাশা আগুন কেড়ে নিয়েছে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা গ্রামের মৃত সৈয়দ কামাল উদ্দিন ছেলে সৈয়দ খবির উদ্দিন নাহিদের (৩৮) জীবন। নিহতের বড় ভাইয়ের ছেলে সৈয়দ আব্দুল হাই মিল্লাত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দ খবির উদ্দিন নাহিদ ঢাকার চকবাজারে চাল ও প্লাস্টিকের ব্যবসা করতেন। স্ত্রী আকলিমা আক্তার এবং ২ মেয়েকে নিয়ে তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন। বড় মেয়ে আয়েশা নাহিদ (৭) রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ও ২য় মেয়ে আদিবা নাহিদ নাতাশা (৫)। ঘটনার রাতে নাহিদ ১২ লাখ টাকার মালামাল বিক্রি করে ওই টাকা ক্যাশ বাক্সে রেখে পণ্য ডেলিভারি দিতে গুদামে প্রবেশ করেছিলেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে গুদাম থেকে দোকানে যেতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে অকালে প্রাণ হারান তিনি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার পর স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. আবদুল্লাহ আল-মাহফুজ জানান, শুক্রবার সকাল ১০টায় গ্রামের বাড়িতে নাহিদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
হোমনার কাউসার আলম: নিহত কাউসারের বড় ভাই ইলিয়াস হোসেন জানান, তার ছোট ভাই ঢাকা বিশ্বদ্যািলয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও কোরআনে হাফেজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে হোমনা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে জানাজা শেষে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয় তাকে। তার অকাল মৃত্যুতে বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান ও ভাই-বোনের আহাজারি যেন থামছে না। পরিবারের লোকজন জানান, কাউসারের স্বপ্ন ছিল ব্যাংকার হওয়ার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি চকবাজারে আল মদিনা মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ইউনিট এবং একটি ওষুধের ফার্মেসি চালাতেন। পড়াশুনা শেষ করে তিনি পরিবারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন তার মুহূর্তেই হলো পুড়ে ছাই। চার ভাইয়ের মধ্যে কাউসার তৃতীয়। পরিবার নিয়ে তিনি পুরান ঢাকায় থাকতেন। তার দুই ছেলেমেয়ে- আবদুল্লাহ ও নুসাইবা।
ব্রাহ্মণপাড়ার শাহাদাত হোসেন: ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের দর্পনারায়ণপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিন সরকারের ছেলে শাহাদাত হোসেন সরকার (৩৫)। তিনি চকবাজারের একটি বেকারির সেলসম্যান ছিলেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ইসলামপুরে বাসা ভাড়া করে থাকতেন তিনি। বেকারিতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান শাহাদাত। তার স্ত্রী শিরিনা বেগম জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর তার স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন শাহাদাতের নিশ্চয়ই কোনো বিপদ ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে তাকে জানানো হয় তার স্বামীর লাশ হাসপাতালে আছে। তখন তার মামা মিজানুর রহমান লাশ শনাক্ত করে রাতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং রাত সাড়ে ১০টায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া ছিদ্দিকা নিহতের পরিবারের সদস্যদের নগদ ২০ হাজার টাকা অনুদান দেন।