চবিতে ছাত্রলীগের গোলাগুলি, সংঘর্ষ আহত ১৩

এক ছাত্রলীগ নেতাকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে অপহরণ ও মারধরের জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পাঁচ রাউন্ড গুলি ও চারটি ককটেলের শব্দ পাওয়া যায়। এতে ছাত্রলীগের ১৩ কর্মী আহত হয়েছে। শুক্রবার রাত দেড়টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের শাহ জালাল, শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষই হলে অবস্থান নিয়েছে। 

জানা গেছে, বিবদমান পক্ষ দুটি হলো সিক্সটি নাইন ও উল্কা। উভয় পক্ষই সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। তবে আহতরা সবাই সিক্সটি নাইনের কর্মী। আহতদের মধ্যে ধ্রুব, অর্ণব ও অন্য একজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের  বিশ্ববিদ্যালয় চিকিত্সা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি ও উল্কার নেতা গোলাম রসুলকে নগরের লালখান বাজার এলাকা থেকে শুক্রবার অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। এর প্রতিবাদে তার অনুসারীরা রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, সিক্সটি নাইনের নেতাকর্মীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিক্ষোভ চলাকালে সিক্সটি নাইনের নেতা-কর্মীরা উল্কার নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেন। পরে উল্কার পক্ষে এসে যোগ দেয় ভার্সিটি এক্সপ্রেস ও একাকার নামে আরও  দুই সংগঠন। এসময় দুই পক্ষই পাঁচ রাউন্ড গুলি ও চারটি ককটেল ফাটায় এবং একে অপরকে ইট-পাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনার জের ধরে গতকাল শনিবার দুপুর ১ টার দিকে সিক্সটি নাইন গ্রুপের এক কর্মী খাবার খেতে বের হলে উল্কা গ্রুপের কয়েকজন কর্মী ধাওয়া দেয়। পরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

চবি মেডিক্যাল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, আহতদের মধ্যে তিন জনের মাথায়, চোখে ও হাতে বেশি আঘাত থাকায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিত্সা কেন্দ্রেই চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাংগীর বলেন, রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তবে আমরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।