সীমান্ত বাণিজ্য দ্রুত বাড়াতে চায় ত্রিপুরা

ভারত ও বাংলাদেশের স্থলসীমানার দৈর্ঘ্য চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার, যা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ। দুটি দেশের সরকারই মনে করে, পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়াতে এত দীর্ঘ স্থলসীমানায় সীমান্ত হাটের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত বাণিজ্য বাড়াতে সীমান্ত হাট বাড়ানোরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন সীমান্ত হাটগুলো চালু হলে তিন বছরের মধ্যে শুধু ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ৫০০ কোটি রুপি (আট কোটি ডলার) ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে রাজ্যটির শিল্প দপ্তর।

ত্রিপুরার শিল্প দপ্তরের পরিচালক পি এল আগারওয়াল ভারতীয় পত্রিকা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘১৯৯৪ সালে ত্রিপুরা দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল শূন্য। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৩৪০ কোটি রুপি। নির্বাচনী বছর হওয়ায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যদিও তা কমে ২৪০ কোটি রুপিতে এসেছে, এর পরও রপ্তানি বাংলাদেশের পক্ষেই রয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি রুপিতে নিয়ে যাওয়া। এটি খুবই সম্ভব, কারণ বাংলাদেশ থেকে নিত্যনতুন পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা এখানে আসছেন।’
রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের এ কর্মকর্তা আরও জানান, ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে বছরে ১০ কোটি রুপির পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে হস্তশিল্পজাত পণ্য, বাঁশ ও রেশম।
আগারওয়াল নিশ্চিত করেন আগামী অক্টোবরের মধ্যে ত্রিপুরাতে আরও দুটি সীমান্ত হাট উদ্বোধন করা হবে। এর ফলে বৈধ আমদানি-রপ্তানি বাড়বে।
সীমান্ত হাট বাড়ানোর প্রসঙ্গে আগারওয়াল বলেন, ‘সীমান্ত হাট সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেয় এবং তাদের পণ্য বেচাকেনার সুযোগ করে দেয়। একটি সীমান্ত হাট থেকে সপ্তাহে গড়ে এক কোটি রুপির বেশি বাণিজ্য হয়ে থাকে, যা আরও বাড়ানো সম্ভব। ত্রিপুরার রাজ্য সরকার সীমান্ত হাট বাড়াতে খুবই আন্তরিক। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের মনোভাবও ইতিবাচক।’
আগারওয়ালের দাবি, বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত হাট বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির নদী ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে দিতে সম্মতি দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও আশুগঞ্জ নদীবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিতে উভয় দেশের সরকারের মধ্যে কার্যকর আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে দুটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয় জড়িত বলে সিদ্ধান্ত নিতে বেশি সময় লাগে।’
যোগাযোগ উন্নয়নে ত্রিপুরার আগরতলা ও বাংলাদেশের আখাউড়ার রেল যোগাযোগ উন্নয়নে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। পি এল আগারওয়াল আরও জানান, ইতিমধ্যেই দুটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ত্রিপুরায় বিনিয়োগ করেছে এবং আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
সীমান্ত হাটে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিক্রিযোগ্য পণ্যের মধ্যে আছে: প্লাস্টিকসামগ্রী, বিস্কুট, পুরুষের ব্যবহার্য লুঙ্গি, শুকনা মাছ (শুঁটকি), বেকারিসামগ্রী, শাকসবজি, অ্যালুমিনিয়ামসামগ্রী, রান্নার সামগ্রী, ফলের জুস, ফলমূল, মেলামিনসামগ্রী, স্থানীয়ভাবে তৈরি করা ক্ষুদ্র কৃষি ও গৃহনির্মাণসামগ্রী, খাদি কাপড়, কসমেটিকস এবং টয়লেট্রিজসামগ্রী।