পাইকারি ও খুচরাবাজারে মশলার দাম আকাশ-পাতাল পার্থক্য

 
 
 
 
পাইকারি ও খুচরাবাজারে মশলার দামে আকাশপাতাল ব্যবধানে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এরই মধ্যে ক্রেতার গায়ে মশলার দামের ঝাঁজ লাগতে শুরু করেছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক মাসের ব্যবধানে খুচরাবাজারে পেঁয়াজ, রসুন, জিরা, হলুদসহ প্রায় সব মশলার দামই বেড়েছে। রসুনের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
শনিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, নিউমার্কেট ও শান্তনগর বাজারে খোঁজ নিয়ে মশলার দামের এই চিত্র পাওয়া যায়। তবে খুচরাবাজারে যে দরে মশলা বিক্রি হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কমে বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে। 
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পাইকারি বাজার থেকে পণ্য কেনার পর পরিবহন ভাড়া, পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়া ছাড়াও ক্রেতার কাছে অল্প পরিমাণে বিক্রির ফলে ঘাটতি পড়ে মোট পণ্যের পরিমাণের ওপর। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই খুচরাবাজারে পণ্য বিক্রি করা হয়।
আজ খুচরাবাজারে মানভেদে আমাদানিকৃত পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, রসুন ৮৫ থেকে ১০০ টাকা, শুকনা মরিচ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, হলুদ ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, আদা ১৪০ থেকে ২৫০ টাকা, জিরা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, দারুচিনি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, এলাচ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, ধনিয়া ১৮০ থেকে ২৪০ টাকা ও তেজপাতা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
অন্য দিকে, পাইকারি বাজার ঢাকার মৌলভীবাজারে মানভেদে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, এলাচ ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, দারুচিনি থেকে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৪ টাকা, আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২৪ থেকে ২৬ টাকা,  আদা ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, রসুন ৬০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে মহাখালী কাঁচাবাজারের খুচরা মশলা ব্যবসায়ী আমজাদ বলেন, একজন খুচরা ব্যবসায়ীকে পণ্য বিক্রি করতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। তিনি বলেন, পাইকারি বাজার থেকে পণ্য কেনার পর পরিবহন খরচ রয়েছে। এ ছাড়া, খুচরা ক্রেতার কাছে অল্প পরিমাণে বিক্রি করায় মোট ক্রয়কৃত পণ্যে ঘাটতি পড়ে। সেই সাথে কিছু পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এ সব কিছু মিলিয়ে খুচরা ক্রেতার কাছে সামান্য লাভে মাল বিক্রি করা হয়।