জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ লক্ষনীয় ভাবে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৬২ শতাংশ ও নীট বিনিয়োগ বেড়েছে ২২৮ শতাংশেরও বেশি। একদিকে দেশে নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র কম থাকা অন্যদিকে ব্যাংকগুলোতে সুদের হার কম থাকায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকেই মানুষ ভরসা হিসেবে দেখছে বলে অনেকেই মনে করছেন। আর এজন্যই মূলত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ছে।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলোতে প্রচুল নগদ অর্থ (তারল্য) উদ্বৃত্ত রয়েছে। এজন্য নতুন করে আমানত সংগ্রহের পরিবর্তে নিরুত্সাহীত করতে আমানতে সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংকগুলো। কমানো হয়েছে দীর্ঘ মেয়াদী আমানতের (এফডিআর) সুদ হারও।
বিনিয়োগ মন্দায়, ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনতে ও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এর বিকল্প ছিল না বলে জানান ব্যাংকাররা। গত মার্চ মাস থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়ার কারণে এখাতে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। অন্যদিকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করমুক্ত রাখায় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সঞ্চয় পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের গত দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আর আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল দুই হাজার ৮৭০ কোটি টাকার। অর্থাত্ বিক্রি বেড়েছে দুই হাজার ৪০৩ কোটি টাকার।
এরমধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের আসল-সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে তিন হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ হচ্ছে চার হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২২৮ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি। অর্থাত্ সুদ-আসল পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকে ঋণ হিসেবে নেয় সরকার। এ টাকা সরকার তার প্রয়োজনে বিভিন্ন খাতে খরচ করে থাকে। ঘাটতি মেটাতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। বিক্রি বেশি হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে আট হাজার কোটি টাকা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নয় হাজার ৫৬ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়লে সরকার হয়। কারণ, বাজেট ঘাটতি পূরণে কিছুটা হলেও ব্যাংক নির্ভরতা কমে যায়। তবে অন্যদিক এক্ষেত্রে ঝুঁকিও থাকে। কারণ সরকার যদি নিট বিনিয়োগ খরচ করে ফেলে তাহলে তা সার্বিক অর্থনীতির জন্য খারাপ। এজন্য সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের টাকা উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগের কথা বলেন তিনি।