ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। শুক্রবার চামড়া ব্যবসায়ীদের তিন সংগঠন যৌথভাবে এ দাম নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছে। এ বছর মহিষের প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারা দেশে খাসির লবণযুক্ত চামড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায় সংগ্রহ করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশে চামড়াব্যবসায়ীদের তিন সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন এই মূল্য নির্ধারণ করেছে। রাজধানীর ধানমন্ডিতে অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এ বছর নির্ধরিত দাম গত বছরের তুলনায় গড়ে ১৫ টাকা কম। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফই) সভাপতি আবু তাহের বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিলিয়ে চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় আমরাও বাধ্য হচ্ছি কম দাম নির্ধারণে।
উল্লেখ্য, গত বছর সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কেনেন ৮৫-৯০ টাকায়। আর ঢাকার বাইরে তা কেনা হয় ৭৫-৮০ টাকায়।
গত বছর সরকার দাম ঠিক করে দিলেও এবার বাণিজ্যমন্ত্রীর চাপে চামড়াব্যবসায়ীরা এ দাম নির্ধারণ করল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ চামড়ার দাম শুক্রবারের মধ্যে নির্ধারণ করার নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনগুলো বৈঠক করে দাম নির্ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কত কমেছে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দাম ২০/২৫ সেন্ট কমে গেছে। পাশাপাশি দেশে ডলারের দামও পড়ে গেছে। তিনি বলেন, এবার ঈদে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ পিস গরুর চামড়া এবং ৩০ থেকে ৩৫ লাখ পিস ছাগলের চামড়া সংগ্রহের আশা করছি। তবে এখন শুস্ক মৌসুম বিধায় চামড়া সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুরোধে আমরা এবার চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছি। গত ২ মাসে আমাদেরর রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিলা ১০৬ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু এই মাসে আমাদের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা কমে গেছে। এ কারণে এবার চামড়ার মূল্য গতবারে তুলনায় কম নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়াব্যবসায়ীদের ব্যাংকঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক বলছে ৫০২ কোটি টাকা দিয়েছে কিন্তু আমরা এতো টাকা পাইনি। আমাদের পুরো লোনই হচ্ছে ৫০২ কোটি টাকার।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিনস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু তাহের বলেন, আমাদের এই চামড়া শিল্প এখন সংকটময় সময়ের মুখমুখী। আর্ন্তজাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের মূল্যহ্রাস ও পরিবেশবান্ধব নয়— এমন অজুহাতের কারণে বিদেশি ব্র্যান্ড প্রস্তুতকারীরা বাংলাদেশ থেকে চামড়া কিনতে অনীহা প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, নতুন শিল্প নগরীতে কারখানা স্থানান্তরের কারণে আমাদের বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করতে হয়েছে। পরিবেশ সম্মত কমপ্লায়েন্ট কারখানা গড়ে তোলার ব্যাপারেও আর্ন্তজাতিক চাপ আসছে। এ কারণে এই শিল্পের ওপর প্রভাব পড়ছে।