বিয়ের বয়স না কমানোর আহ্বান এইচআরডব্লিউর

 
মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমানো ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হবে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে এই মন্তব্য করা হয়।
এইচআরডব্লিউর নারী অধিকার বিষয়ক পরিচালক লিজেল গেনহলজ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের বয়সের সীমা কমিয়ে ১৬ বছর করা হলে তা হবে ভুল দিকে একটি ভয়ংকর পদপে। এমনিতেই বাংলাদেশর বাল্যবিবাহের সংখ্যা অনেক। নতুন আইনে ছেলে-মেয়ে উভয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ করা উচিত।
সংস্থাটির মতে, বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সরকারে উচিত বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ করা। সম্প্রতি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভা মেয়েদের বিয়ের ন্যূনমত বয়স ১৬ ও ছেলেদের ১৮ করার জন্য বিবেচনা করছে। 
বর্তমান আইনে বাংলাদেশে মেয়েরা বিয়ের যোগ্য হয় ১৮ বছর বয়সে, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ওই বয়সেই শৈশব শেষ হয়। সম্প্রতি লন্ডনে কন্যাশিশু সম্মেলনে যোগ দিয়ে বাল্যবিয়ের হার কমিয়ে আনার বিষয়ে নিজের অঙ্গীকারের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে বিয়ের বয়স পরিবর্তনের অর্থ দাঁড়াবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সরে আসা।
গেনহলজ বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার বাল্যবিবাহর রোধ করার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছে। কিন্তু এই পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ভুক্তভোগী নারী ও কর্মী গ্রুপের অংশগ্রহণের দরকার রয়েছে। নারী ও শিশুদের রক্ষার জন্য যেসব সংস্থার ভালো জানা রয়েছে প্রত্যেক পদক্ষেপে তাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা করা উচিত। 
তিনি বলছেন, বিশ্বের যেসব দেশ বাল্যবিবাহ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশ সরকারের উচিত তাদের কাছ থেকে সুবিধা নেয়া।
গেলহেনজ বলেছেন, বাংলাদেশের সরকারের উচিত একটি বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণ আইন করা যা বালিকাদের বিয়ে পিছিয়ে দেয়ার অধিকার দেবে, অবাঞ্চিত বিয়ে রোধ করবে ও ব্যক্তি হিসেবে তারা সমাজে স্বীকৃত হবে।