মুদ্রানীতি প্রণয়নে শেয়ারবাজারকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ

মুদ্রানীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এই মুদ্রানীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কখনোই শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দেয়নি। এজন্য আগামীতে মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে দাবি জানান পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত মনিটরি পলিসি স্টেটমেন্ট: ইমপ্লিকেশন অন প্রাইভেট সেক্টর-শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট ওসামা তাসীর এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী। সভায় ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন আরও বলেন, মুদ্রানীতি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও আতঙ্ক তৈরি হয়। কিন্তু মুদ্রানীতি প্রণয়নে যদি আমাদের অংশগ্রহণ থাকে, তবে সেই সমস্যা কেটে যাবে। এছাড়া, মুদ্রানীতির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটার সুযোগ থাকবে না।

মুদ্রানীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআর), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লি. (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লি. (সিএসই) এর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট মতামত তুলে ধরা যেতে পারে।

ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি মো. শাকিল রিজভী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণের পরিবর্তে শেয়ারবাজারকে উত্সাহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিএসইসির ন্যায় বাংলাদেশ ব্যাংককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে। শাকিল রিজভী আরও বলেন, শেয়ারবাজারের মূলধনের ৪০ শতাংশ ব্যাংকের দখলে। ফলে ব্যাংকের শেয়ার দর উঠানামায় শেয়ারবাজারে বড় প্রভাব পড়ে। এরমধ্যে কিছু ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য অনিরীক্ষিত প্রান্তিক হিসাবগুলোতে অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখায়। বিশেষ করে প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে সম্ভাব্য ঝুঁকির জন্য সঠিক সঞ্চিতি (প্রভিশনিং) গঠন না করে এমনটি করা হয়। তবে বছরের চূড়ান্ত ও নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাবে ব্যাংকের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসে। তখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে পুরো শেয়ারবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি তিনি আহ্বান করেছেন। এছাড়া, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর হতে এবং অনিচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণ আদায়ে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি শেয়ারবাজার। এই বাজারের সঙ্গে মুদ্রানীতি সরাসরি সম্পৃক্ত। তবে মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হয় না। যাতে মুদ্রানীতিতে শেয়ারবাজারের স্বার্থ অবহেলিত থাকে। এছাড়া, মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা ধরনের গুজব তৈরি হয়। যাতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে এ সমস্যা উত্তরণে আগামীতে মুদ্রানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।