চিকিত্সক, নার্স, যন্ত্রপাতি, জনবল সংকট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি খুঁড়িয়ে চলছে। এখানে চিকিত্সক, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ ১৯৬টি পদের মধ্যে ৪০টি শূন্য রয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৮ জন চিকিত্সকের স্থলে কাগজপত্রে ১২ জন কর্মরত আছেন। তবে গত বুধবার কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র সাতজন। তিনজন আছেন ছুটিতে। আর ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত রয়েছেন একজন। একজন আছেন সাপ্তাহিক ছুটিতে। আর বাকীরা রয়েছেন প্রশিক্ষণে। এখানে আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা (আরএমও), চক্ষু, নাক-কান-গলা, অবেদনবিদ, চর্ম ও যৌন এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ (কনসালট্যান্ট) নেই। তিনটি আধুনিক ওটি কক্ষ থাকলেও সার্জন ও অবেদনবিদের অভাবে গত পাঁচ বছর ধরে সিজার হচ্ছে না। নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে অস্ত্রোপচার কক্ষের যন্ত্রপাতি। মান্দাতার আমলের (৪৩-৪৪ বছরের পুরনো) এক্স-রে যন্ত্রটি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। নেই একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র। আগে চালক থাকলেও প্রায় ১০ বছর অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। গত বছরের ২ জানুয়ারি একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হলেও কর্মক্ষমহীন (মাদকাশক্ত) চালকের কারণে এর চাকা ঘুরছে না। কাগজপত্রে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বাস্তবে ৩৭টি শয্যা রয়েছে। নেই বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের স্টাফ নার্স রুমা আক্তার ও মাহমুদা আক্তার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বাসার আশপাশে দিনে-রাতে চলে বখাটেদের উত্পাত। বহিরাগতরা বাসার আশপাশে মলমূত্র ত্যাগ করে। কিছু বললেই বকাঝকা শুনতে হয়। আমরা এখানে ভয়ের মধ্যে থাকি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী আইনুল ইসলাম এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকা, চিকিত্সক সংকট, অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সমস্যা ও যন্ত্রপাতি সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সমস্যার বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিমাসেই অবহিত করে আসছি। আশা করি, এসব সমস্যার সমাধান শিগগির হবে।