ঝিনাইদহের অপহূত এসএসসি পরীক্ষার্থী খুলনায় উদ্ধার

মুক্তিপণের দাবিতে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রাম থেকে অপহূত এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. আশরাফুজ্জামান জিসানকে (১৬) খুলনা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। জিসান মহেশপুরের মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের মো.আসাদুজ্জামান লিখনের ছেলে। তার বাবা স্থানীয় কমলাপুর হাইস্কুলের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে যশোরের চৌগাছা থানা এলাকায় কোচিং শেষে বাড়িতে ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়।

র্যাব-৬ খুলনার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অপহরণের ঘটনায় জিসানের বাবা আসাদুজ্জামান লিখন গত ২০ ফেব্রুয়ারি চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল সোয়া ১১টায় একটি মোবাইল ফোন (০১৭৯২৫৭২২০৪) থেকে ৫ লাখ টাকার মুক্তিপণ চেয়ে তার মায়ের মোবাইলে ফোন করা হয়। ওই সময় মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর জন্য অপহরণকারীরা একটি বিকাশ নম্বর (০১৮৭৪৭৯১৪৭৯) প্রদান করে।

এ সময় তার বাবা আসাদুজ্জামান লিখন তাত্ক্ষণিকভাবে ৪০ হাজার এবং পরে আরো ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। বিষয়টি র্যাব-৬, ঝিনাইদহ ক্যাম্পে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালে গোপন খবরের ভিত্তিতে গত শনিবার ভোরে খুলনার ফুলতলা উপজেলার বরণপাড়া গ্রাম থেকে তানভীর আহম্মেদকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী দুপুর ১২টার দিকে জিসানের পিতা-মাতার কাছ থেকে আরো মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করার জন্য আব্দুল্লাহ আল নাদিম (২০) ফুলতলার পথের বাজার এলাকায় আসলে তাকেও গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিকালে দৌলতপুরের হাজী ইব্রাহীম রোডস্থ জনৈক শেখ মতলেবুর রহমানের (তুষার) চারতলা বিশিষ্ট মেসের তিনতলায় গ্রেফতারকৃত নাদিমের কক্ষ থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অপহরণকারী আব্দুল্লাহ আল নাদিম যশোর শহরের আরবপুর মোড় এলাকার মৃত মোর্শেদ মিয়ার ছেলে এবং তানভীর আহম্মেদ ফুলতলা উপজেলার বরণপাড়া গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে।

র্যাবের ঝিনাইদহ কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা প্রদানকৃত বিকাশ সীম কার্ডসহ মোট ১০টি সীম কার্ড এবং ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।