প্রেম-যুদ্ধের উপন্যাসে রিচার্ড ফ্লানেগ্যানের বুকার জয়

এ বছর সাহিত্য অঙ্গনের অন্যতম সম্মানজনক ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ঔপন্যাসিক রিচার্ড ফ্লানেগ্যান। ‘দ্য ন্যারো রোড টু দ্য ডিপ নর্থ’ উপন্যাসের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে থাইল্যান্ড-বার্মা ‘মরণ’ রেলওয়ে নির্মাণের সময় একজন কারাবন্দির প্রেমের উপর নির্ভর করে লেখা হয়েছে উপন্যাসটি। মূলত ফ্ল্যানেগ্যানের বাবা ছিলেন এ সময় জাপানি যুদ্ধবন্দী। তার অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই উপন্যাসটি লিখেছেন লেখক। উপন্যাসটি যেদিন লেখা শেষ হয় সেদিনই ৯৮ বছর বয়সে ফ্লানেগ্যানের বাবা মারা যান।
তাসমানিয়ায় বসবাসকারী ৫৩ বছর বয়সী ফ্লানেগ্যানের হাতে ৫০ হাজার পাউন্ড মূল্যমানের এ পুরস্কার তুলে দেন ডাচেস অফ কর্নওয়াল। মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের গিল্ডহলে অনুষ্ঠানে ম্যান বুকার পুরস্কারের বিচারকদের প্রধান এসি গ্রেইলিং বলেন, ফ্লানেগ্যানের উপন্যাসটি আকর্ষণীয় ভালোবাসার ঘটনার বিবরণ একইসঙ্গে মানব দুর্ভোগ ও বিশ্বস্ত বন্ধুত্বেরও কাহিনী। এই উপন্যাসে সাহিত্যের ভালোবাসা ও যুদ্ধের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। এটা ভালোবাসা ও যুদ্ধের এক চমত্কার উপন্যাস। এর গদ্যের লিখন অসাধারণ রুচিশীল ও প্রবল। এই উপন্যাস পূর্ব-পশ্চিম, অতীত-বর্তমানকে একসূত্রে গেঁথেছে। একইসঙ্গে অপরাধ ও বীরত্বের চিত্রও ফুটিয়ে তুলেছে। যে কারণে প্রায় তিন ঘণ্টার বিতর্কের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা এই সিদ্ধান্ত নেন।
‘দ্যা ন্যারো রোড টু দ্য ডিপ নর্থ’ উপন্যাসটি লেখকের ষষ্ঠ উপন্যাস। যেটি লিখতে প্রায় ১২ বছর সময় লেগেছে। উপন্যাসের কাহিনী জাপানি বন্দি সার্জন দোরিগো ইভান্সের। যুদ্ধবন্দীদের শিবিরে নৈরাশ্যের মধ্যে যার মনে বার বার ঘুরে-ফিরে আসতো দুই বছর আগে এক চাচার তরুণী স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের স্মৃতি। উল্লেখ্য, জোরপূর্বক শ্রমিকদের দিয়ে ১৯৪৩ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও বার্মার রেঙ্গুনের মধ্যে রেললাইনটি নির্মাণ করে জাপান। এই রেললাইন নির্মাণের সময় প্রায় ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
১৯৬১ সালের জুলাইয়ে জন্মগ্রহণ গ্রহণকারী ফ্লানেগ্যান ম্যান বুকার পাওয়া তৃতীয় অস্ট্রেলীয় লেখক। তার অন্য উপন্যাসগুলো হলো ডেথ অব এ রিভার গাইড, দ্য সাউন্ড অব ওয়ান হ্যান্ড ক্লাপিং, গাউল্ড’স বুক অব ফিস, দ্য আননোন টেরোরিস্ট এবং ওয়ান্টিং। বিশ্বের ২৬টি দেশে এগুলো প্রকাশিত হয়েছে। পুরস্কারের গ্রহণের সময় ফ্লানেগ্যান বলেন, লন্ডনের এই গ্রান্ড হলে এসে দাঁড়াতে পারবো এটা কখনো আশা করিনি। খুবই সম্মানিত বোধ করছি।
উল্লেখ্য, গত বছর ‘দ্য লুমিনারিস’ উপন্যাসের জন্য এই পুরস্কার পান নিউজিল্যান্ডের লেখক ইলিনর ক্যাট্টন।