হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গহীন অরণ্য থেকে মেশিনগানসহ বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব-৯ বৃহস্পতিবার দুপুরে উদ্যানের পার্শ্ববর্তী কনিমুরচা নামক টিলায় একটি গর্তের ভেতর এসব অস্ত্র উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৩টি মেশিনগান, ৪টি মেশিনগানের ব্যারেল, ৮টি ম্যাগজিন, ২৫০ রাউন্ড গুলি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি লিংক বেল্ট ও ১টি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন রেডিওসেট। ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৯ এর উইং কমান্ডার মোঃ রিয়াদ হাসান রব্বানী জানান, তাদের এ অভিযান চলমান। ৪/৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত দু’দিন অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
দফায় দফায় এতসব ভয়ানক উদ্ধার হলেও এর উত্স সম্পর্কে কিছুই জানেনা তাদের কেউ। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারীতে রাখার পর র্যাব প্রথম দফায় ১ জুন রাতে সাতছড়ি মার্চ করে। ৩ জুন একে একে ৭টি বাংকার খনন করে উদ্ধার করে রকেট গোলা, রকেট চার্জারসহ বিপুল পরিমান অস্ত্রের ভাণ্ডব। উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পোশাকের আদলের প্রচুর পরিমান কাপড়, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্যাডসহ কাগজপত্র। অভিযান চলে টানা ১৯ জুন পর্যন্ত। পরে দ্বিতীয় দফায় ২ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করা হয় মেশিনগান, রকেট লাঞ্চার, এলএমজিসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র। ১৭ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় উদ্ধার করা হয়েছে ট্যাংক বিধংসী রকেট গোলা ও রকেট চার্জার। এসবই উদ্ধার করা হয়েছিল উদ্যানের পার্শ্ববর্তী ত্রিপুরা পল্লীসহ আশপাশের কয়েকটি টিলা থেকে। এ ব্যাপারে পৃথক ৪টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। যার দু’টির তদন্ত করছেন চুনারুঘাট থানার ওসি অমূল্য কুমার চৌধুরী এবং অপর দু’টির তদন্ত করছেন ওসি (তদন্ত) ইকবাল হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত এবং অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চললেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি বের করা যায়নি অস্ত্রে উত্স। কে বা কারা, কি উদ্দেশ্যে, কোথা থেকে, কত সালে, কিভাবে এসব অস্ত্র এখানে এনে মজুদ করেছিল তারও কোন হদিস মেলেনি।