না.গঞ্জে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে সাংবাদিক, পুলিশসহ আহত ১৫

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শুভকরদী গ্রামে সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দুই দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থেমে থেমে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ২৩ রাউন্ড গুলিবর্ষন করেছে।

বন্দর থানার ওসি পরিদর্শক (তদন্ত) মোকাররম হোসেন জানান, শুভকরদী গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা বনি আমিন ও বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলামের দীর্ঘ দিন ধরে জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে দুপুরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সময় একটি মসজিদের ভেতরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার জুমআর নামাজের পর বনি আমিন ও আমিনুল ইসলামের লোকজনদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা ঘটে। এরপর দুই পক্ষ লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অন্যের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। বিকেলে আবারো শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ। ওই সময়ে একটি মসজিদেও দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে পুলিশের এএসআই কামরুল ইসলাম, কনস্টেবল সোহেল, স্থানীয় একটি দৈনিকের সাংবাদিক জিএম মজনু, শাকির আহমেদ বাপ্পীসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে তাজিনুর বেগম (২৫), আফতুননেছা (৫৫), ইমন (২৬), রমিজা বেগম (৫০), বনি আমিন (৩২), আঁখিদা (৩৫), কাপাতুন (৪০) এর পরিচয় জানা গেছে। তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেয়া হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে আশেপাশের বসতবাড়ি, দোকানপাটে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। একটি সিএনজিতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। অগ্নিকান্ডের সংবাদ পেয়ে বন্দর ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সিএনজির আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ উভয় দলের ৩ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো খবির উদ্দিন (৬০) মুরাদ (৪০) তাওলাদ (৩৫) ।