বানারীপাড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপির নির্দেশে জাইকা প্রকল্পের সেতু ও কালভার্ট নির্মানের ৩ মেট্রিক টন ৮০০ কেজি রড ঠিকাদারকে ফেরত দিলেন বানারীপাড়ার বিশারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক। তিনি এগুলো বিক্রি করে দিয়েছিলেন। ১৫ অক্টোবর রাতে ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ওই রড পয়সারহাট বাজারের ভাংগারী ব্যবসায়ী মোসলেমের দোকান থেকে এনে বিশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে রেখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আকন ট্রেডিং এন্ড কোংকে বুঝিয়ে দেন। এ বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পার্টনার বিনয়কাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যন এনামূল হক এলিন। জানা গেছে ১৪ অক্টোবর সকালে ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক লোকজন নিয়ে বিশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষের তালা ভেঙে ৩ মেট্রিক টন ৮০০ কেজি রড নিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট বাজারের ভাংগারী ব্যাবসায়ী মোসলেমের দোকানে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। স্থানীয়রা এ বিষয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আকন ট্রেডিং এন্ড কোং এর স্বত্ত্বাধীকারী মোঃ নাসিম ও তার ব্যবসায়িক র্পাটনার এনামূল হক এলিনকে জানায়। পরে তারা আগৈলঝাড়ায় গিয়ে থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে পয়সারহাট বাজারের ভাংগারী ব্যাবসায়ী মোসলেমের দোকান থেকে উক্ত ৩ মেট্রিক টন ৮০০ কেজি রড আটক করেন। এ ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আগৈলঝাড়া থানায় একটি সাধারন ডায়রী করা হয়। পরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের কছে ইউপি চেয়ারম্যন ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়। উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপিকে জানায়। তারা এ বিষয়টি জেনে বিশারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুকে ঠিকাদারের রড ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী বুধবার রাতে বিক্রিকৃত রড পয়সারহাট বাজারের ভাংগারী ব্যবসায়ী মোসলেমের দোকান থেকে এনে ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দেন বলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীক পাটনার এলিন জানান। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান মেসার্স আকন ট্রেডিং এন্ড কোং এর ঠিকাদারের কাছে ব্রিজের এ্যপ্রোস সড়ক নির্মানে মাটি ভরাটের প্রায় ২ লাখ টাকা সহ ব্রিজের বেইজ নির্মানে লোহার বিম কেটে ফেলার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। এ বিষয়টি অস্বীকার করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাাধীকারী মোঃ নাসিম আকন ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনার এনামূল হক এলিন বলেন ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে দিয়ে তারা কোন মাটি ভরাটের কাজ করাননি এবং সে তাদের কাছে কোন টাকা পাবে না। বরং চেয়ারম্যান ওমর ফারুক তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নির্মান কাজে বাধা দিয়ে ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার করে অনেক টাকা নিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক এ বিষয়টি অস্বীকার করেন।