গত অর্থবছরে (২০১৩-১৪) ব্যাংকগুলো কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে ২৪ হাজার ৭০৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ২১ হাজার ৯১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সে হিসেবে গত অর্থবছরে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য দেখা গেছে।
গত অর্থবছরে কৃষিভিত্তিক শিল্প ঋণের সিংহভাগ বিতরণ হয়েছে চলতি মূলধন খাতে এবং সামান্য পরিমাণের ঋণ মেয়াদি ঋণ খাতে বিতরণ হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়— চলতি মূলধনে ব্যাংকগুলো ২১ হাজার ৫৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আর মেয়াদি ঋণে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এতে করে গত অর্থবছরে চলতি মূলধনে ১৮ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মেয়াদি ঋণে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়— বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ৭২ দশমিক ৩১ শতাংশ, বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রীয় বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলো ৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে।
গত অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংকগুলো এক হাজার ২৮২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ করেছে, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল এক হাজার ১২০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সে হিসেবে রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংকগুলোতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ১৭ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ১৪ হাজার ৬৩২ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, কৃষিভিত্তিক শিল্প ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত তালিকার ৩৬ ক্যাটাগরির মধ্যে খাদ্যজাত ক্যাটাগরিতে রয়েছে ২০টি পণ্য। আর খাদ্য-বহির্ভূত ক্যাটাগরিতের রয়েছে ১৬টি পণ্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সবজি ও বিভিন্ন ধরনের ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, আলু থেকে নানা ধরনের খাদ্য প্রস্তুত, হারবাল ও ইউনানি ওযুধ প্রস্তুত, কৃষির যন্ত্রাংশ তৈরি, চা প্রক্রিয়াকরণ, ফুল সংরক্ষণ, হাঁস, মুরগি ও গোবাদি পশু পালন, পাটজাত দ্রব্য প্রস্তুত, জৈব সার তৈরি, মৌমাছি, মাশরুম ও রেশম চাষ, কাঠ, বাস ও বেতের আসবাবপত্র তৈরি, গুঁড়া মসলা উত্পাদন, দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ প্রভৃতি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত অর্থবছরে কৃষি-ভিত্তিক শিল্প খাতে বকেয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৩০০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ২৪ হাজার ৯০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সে হিসেবে গত অর্থবছরে বকেয়া স্থিতি বেড়েছে ২৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে আদায় হয়েছে ২২ হাজার ৩৬৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৭ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি।
পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায়, কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল দুই হাজার ১৩৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। সে হিসেবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন— কৃষিভিত্তিক শিল্প ঋণের বিতরণ, আদায় ও বকেয়া স্থিতির প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক। এ ছাড়াও শ্রেণি বিন্যাসিত ঋণের পরিমাণ বিগত অর্থবছরের তুলনায় ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। তবে কৃষিভিত্তিক শিল্পঋণের সিংহ ভাগই চলতি মূলধন ঋণে বিতরণ হচ্ছে। মেয়াদি ঋণ খাতে বিতরণ কমায় নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না।