রাজশাহীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে তিন নারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে নগরীর শাহ্ মখদুম থানা পুলিশের একটি দল নওদাপাড়া থেকে তাদের গ্রেফতার করে। এরা হলো, সুমন (২৮), মিলন (২৫), সোহাগ (২০), রুবেল (২৫), রানী (৪৫), বৃষ্টি (২০), সুমি (২০)। সকলেই নওদাপাড়ার বাসিন্দা। বিত্তবান ও ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে তারা মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। একই সঙ্গে ঘটনার শিকার আব্দুর রশিদকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। তার বাড়ি জেলার মোহনপুর উপজেলার বেড়পাড়ায়। এ ঘটনায় শাহ্ মখদুম থানায় মামলা হয়েছে।
শাহ্ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা প্রেমের ফাঁদে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের কথা স্বীকার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শনিবার বিকালে তাদের সকলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহ্ মখদুম থানার উপ-পরিদর্শক (এস-আই) শহিদুল ইসলাম জানান, সমপ্রতি ওই চক্রের নারী সদস্যরা মোবাইলে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন আব্দুর রশিদের বন্ধু আলমকে। পরে দেখা করার জন্য আলমকে নওদাপাড়ায় ডেকে নেয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় আলম তার বন্ধু আব্দুর রশিদকে সঙ্গে নিয়ে কথিত প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে আসলে তাদের আটকে রাখা হয়। এসময় মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করে ওই চক্র। অবশেষে ৩০ হাজার টাকায় দফারফা হলে টাকা পৌঁছে দেয়ার জন্য ছেড়ে দেয়া হয় আলমকে।
মুক্তি পেয়ে আলম তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরে তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের ৭ নারী-পুরুষকে গ্রেফতার এবং আব্দুর রশিদকে উদ্ধার করে। এরআগে একই কায়দায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের নিকট থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু মুক্তিপণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে চক্রের সদস্যরা ওই ছাত্রের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়।