রাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট!

 
 
 
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে ধরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় বিপুল শিক্ষার্থীকে আটকের পর পুলিশে দেয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রাজশাহী বিশ্ববিদালয়ে (রাবি) রবিবার থেকে শুরু চারদিনব্যাপী (১৯ থেকে ২২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশাসন সূত্র জানায়, চলতি ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জালিয়াতি বন্ধে মোবাইল কোর্ট নিয়োজিত করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার হলে সবধরণের ক্যালকুলেটর, হেডফোন, মেমোরিযুক্ত ঘড়ি ও  যে কোনো ধরণের ইলেক্ট্রনিক দ্রব্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর দুই কানে কোনো ভাবেই আবৃত রাখাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সূত্র মতে, ক্যাম্পাসের প্রতিটি ভবনের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে শিক্ষার্থীদের শরীর তল্লাশী করা হবে। পরীক্ষার হলে আনা রেজিস্ট্রেশনের ফটোকপির ছবির উপর নতুন করে ছবি লাগানো যাবে না। কম্পিউটার সফটওয়ারের মাধ্যমে এডিট করা ছবি অথবা ছবি থেকে স্ক্যান করা ছবিও ভর্তি পরীক্ষায় গ্রহণযোগ্য হবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভর্তিচ্ছুরা যাতে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবৈধপন্থা অবলম্বন করতে না পারেন এ জন্য প্রতি ১৫ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষককে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগীতা কামনা করেছেন। তিনিও স্বীকার করেন ভর্তি পরীক্ষায় বিভিন্ন দুষ্কৃতিকারী ও স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠীর অপতত্পরতা ঠেকাতে কঠোর নিরপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভর্তি পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাসে আইন শৃংখলা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্য, সাধারণ বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং মোবাইল কোর্ট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ক্যাম্পাসের ৬টি পয়েন্টে তথ্য কেন্দ্র থাকবে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চলতি ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ৮টি অনুষদের অধীনে ৫০টি বিভাগের ৩ হাজার ৮২৮টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭২৬ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন।
 
ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের শো-ডাউন, বাইরে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশের বাধা:
 
এদিকে ভর্তিচ্ছুদের স্বাগত জানিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিশাল শো-ডাউন করেছে। তবে একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে সংগঠনের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল শুরু করলে তা পুলিশী বাধায় প্ল হয়েছে। এসময় মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে পুলিশ কাউকে আটক করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে সহায়তা করলেও কোনো কারণ ছাড়াই ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রদলের মিছিলে বাধাঁ দিয়েছে। আমরা পুলিশের এহেন পক্ষপাত আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ছাত্রদলের মিছিলে বাধা দেয়া হয়েছে।