চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের পর এবার কুমিল্লার আদালত বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। রবিবার বিকালে অজ্ঞাত স্থান থেকে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. শরীফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করে এ হমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় আরিফুল হক নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে এ হুমকির ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় জিডি করা হয়েছে এবং আদালত প্রাঙ্গণসহ নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আদালত এলাকায় পুলিশের চারটি টিম ও ডিবির একটি টিম মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শরীফুল ইসলাম জানান, তার মোবাইল ফোনে রবিবার বিকাল চারটা ৪৯ মিনিটে অজ্ঞাত স্থান থেকে জনৈক ব্যক্তি ০১৮১১-৬৭৮১৪১ নম্বর থেকে কল করে। এ সময় অজ্ঞাত ব্যক্তি জানায়, ‘সে ২/৩টি মার্ডার কেইসের আসামি। কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে অনেকগুলো বোমা রাখা আছে। বোমাগুলো যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হয়ে আইনজীবী সমিতি ভবন বিধ্বস্ত হতে পারে।’
খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আদালত এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায়। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. খোরশেদ আলম জানান, তল্লাশি পরিচালনাকালে সন্দেহভাজন জেলার মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকোট ইউনিয়নের বারেশ্বর গ্রামের মনিরুল হকের পুত্র আরিফুল হককে (২২) আটক করা হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে ‘জঙ্গি হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার প্রসঙ্গ’ উল্লেখ করে পুলিশ সুপারের নিকট কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম পত্র প্রেরণ করেন।
আগামীকাল সোমবার কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে জেএমবি’র ৩ সদস্যকে মামলায় হাজির করে স্বাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুবোধ রঞ্জন সাহা ও জেলার নাশির আহমেদ জানান, এ কারাগারে মোট ৬ জন জেএমবি সদস্য বন্দি রয়েছে।
রাত ৮টায় জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে সমিতির সভাপতি অ্যাড. কাজী নাজমুস সা’দত সাংবাদিকদের জানান, সোমবার জেএমবি সদস্যদের আদালতে হাজিরা ও স্বাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। তাই আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য সমিতির সাধারণ সম্পাদকের মোবাইলে এ ধরণের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ আদালতও উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।