যুবলীগ কর্মী পিটিয়েছেন চিকিৎসককে, প্রতিবাদে বন্ধ চিকিৎসাসেবা

সোমবার নাটোর সদর হাসপাতালের প্যাথলজি কক্ষে ঢুকতে নিষেধ করায় হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদকে মারধর করেছেন যুবলীগের এক কর্মী। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলার সব সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহর যুবলীগের কর্মী বেলাল হোসেন (৩৬) হাসপাতালের প্যাথলজি কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় আবুল কালাম আজাদ তাকে ঢুকতে নিষেধ করলে বেলাল ক্ষুব্ধ হয়ে আজাদের বুকের ওপর একটি পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। আঘাতের ফলে আজাদ চেতনা হারিয়ে ফেলেন। তখন সহকর্মীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন।
চিকিৎসক আজাদের আহত হওয়ার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মশিউর রহমান, সিভিল সার্জন ফেরদৌস নিলুফার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ অনেকে তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে আসেন। ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নাটোর জেলা শাখা হামলাকারীকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে কর্মসূচির ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী সোমবার দুপুর থেকে সদর হাসপাতালসহ জেলার সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন। ফলে কোথাও কোনো রোগীকে ভর্তি করা হচ্ছে না। তবে সব হাসপাতালের জরুরি বিভাগ খোলা রাখতে বলা হয়েছে। সেখানে একজন করে চিকিৎসক কর্মরত থাকবেন বলেও বিএমএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিএমএর নাটোর জেলা শাখার সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনার জন্য আমাদের একজন জ্যেষ্ঠ ও জনপ্রিয় চিকিৎসককে মারধর করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। হামলাকারী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে। তবে জরুরি বিভাগ চালু থাকবে।’
সিভিল সার্জন ফেরদৌস নিলুফার বলেন, ‘আমরা চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখতে চাই না। তবে একই সঙ্গে আমরা নিরাপদে দায়িত্ব পালন করতে চাই। আশা করছি, অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসন হামলাকারীকে আটক করতে পারবে।’
জেলা যুবলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হামলাকারী বেলাল এমপি মহোদয়ের সঙ্গে চলাফেরা করেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি ও বিচার দাবি করছি। তাকে ধরিয়ে দিতেও পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করব।’
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, হামলাকারী যে দলের কর্মীই হন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।