ভাইকে হত্যার অনুশোচনায় আত্মহত্যা

 
 
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ছোটঘিঘাটি গ্রামে মঙ্গলবার সকালে ইদ্রিস আলী (২৭) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ঐ গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে। ধারনা করা হচ্ছে তার চাচাতো ভাই প্রান্তকে (৮) গলা টিপে হত্যার অনুশোচনায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। 
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চত করে জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে ছোটঘিঘাটি গ্রামের স্কুল শিক্ষক আসাদুল ইসলামের ছেলে প্রান্তকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার পর একটি ডোবায় ফেলে রাখে ইদ্রেস আলী। এই ঘটনায় গ্রামবাসী ইদ্রিস আলীকে সন্দেহ করলেও প্রান্তর পিতা আসাদুল ইসলাম কালীগঞ্জ থানায় কোন অভিযোগ করেনি। ফলে রবিবার ময়না তদন্ত ছাড়াই প্রান্তর লাশ দাফন করা হয়। সোমবার শিশু প্রান্তর জামা এবং যে গামছা দিয়ে হত্যা করা হয় সেগুলো পাশ্ববর্তী একটি দোকানের পেছন থেকে উদ্ধার করে গ্রামের লোকজন। এতে প্রান্তকে হত্যার বিষযটি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।  মঙ্গলবার সকালে ইদ্রিস আলী তার স্বজনদের কাছে চাচাতো ভাই প্রান্তকে হত্যার কথা স্বীকার করে অনুশোচনা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে অনুশোচনায় ভুগতে থাকা ইদ্রিস আলী মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
প্রান্তর বাবা আসাদুল ইসলাম জানান, ইদ্রিস আলীর স্ত্রী প্রায় অভিমান করে পিতার বাড়িতে চলে যেত আর আমার মধ্যস্থতায় ফিরে আসতো। কিছুাদিন আগে ইদ্রিসের স্ত্রী আবারো তার বাবার বাড়িতে চলে গেলে ইদ্রিস ফিরিয়ে আনাতে বলে। কিন্তু আমি অপরাগত প্রকাশ করি। আমার প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়েই হয়তো আমার শিশু সন্তানকে ইদ্রিস আলী হত্যা করেছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ইদ্রিস আলীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।