বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাসদ নেতাসহ ২ জনের মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধ

 
 
বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাসদ নেতা ও মাদ্রাসার ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে পালশায় আদর্শ কলেজ রোডের সামনে ট্রাক চাপায় বাসদ নেতা প্রভাষক কৃষ্ণ কমলের (৪২) মৃত্যু হয়। তিনি বাসদ কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটি বগুড়া জেলা কমিটির সমন্বয়ক ও জয়পুরহাট মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে একই মহাসড়কে বগুড়া শহরতলীর নওদা পাড়ায় মাইক্রোবাসের চাপায় এক মাদ্রাসা ছাত্রী নিহত ও তার বোন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ঐ এলাকায় গতিরোধক নির্মাণের দাবিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী দুই ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করে।
বাসদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রফ্রন্ট বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক শীতল সাহা জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে প্রাতঃভ্রমণের জন্য বের হন কৃষ্ণ কমল। বগুড়া শহরতলীর পালশা এলাকায় হাঁটাহাটি শেষে তিনি আদর্শ কলেজ রোড হয়ে শহরের জহুরুল নগরের বাসায় ফিরছিলেন। পথে মহাসড়ক অতিক্রম করতে গেলে একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর দীর্ঘ সময় সেখানেই লাশটি পড়ে ছিলো। লাশ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়। বিকেলে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য হাসপাতাল মর্গ থেকে তার লাশ বগুড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে নেওয়া হয়।
নিহত কৃষ্ণ কমল রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছোট শিনিয়া গ্রামের অনন্ত বর্মণের ছেলে। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে পড়াকালীন সময়ে তিনি ছাত্রফ্রন্টের রাজনীতিতে যুক্ত হন। এরপর পর্যাক্রমে তিনি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং পরবর্তীতে বাসদ জেলা কমিটির সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় ভাবে সমপ্রতি বাসদ বিভক্ত হলে তিনি কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পান।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বগুড়া জেলা কমিটি, বাসদ বগুড়া জেলা কমিটি, তেল-গ্যাস-জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটি, গণসংহতি আন্দোলন, বগুড়া গণজাগরণ মঞ্চ, ছাত্রফ্রন্ট, নারী মুক্তি আন্দোলন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বগুড়া লেখক চক্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে শহরতলীর নওদাপাড়ায় নাজনিন আকতার পাপড়ি (১০) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত হয়েছে। এ সময় তার বোন নাজিয়া আকতার উষমী (৮) গুরুতর আহত হয়। তারা নওদাপাড়ার জাবেদ আলীর মেয়ে এবং নওদাপাড়া নবীগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে হাত ধরাধরি করে দুই বোন ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অতিক্রম করতে যায়। এ সময় বগুড়া থেকে রংপুর অভিমুখী একটি মাইক্রোবাস তাদের চাপা দেয়। এতে পাপড়ী ও উষমী গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে পাপড়িকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে এবং উষমীকে পার্শ্ববর্তী ঠেঙ্গামারা রফাতুল্বা কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পাপড়ি বেলা ১টার দিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এদিকে ওই দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নওদাপাড়া মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। সেখানে গতিরোধক নির্মাণের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করায় উভয়পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে বগুড়ার সহকারি পুলিশ সুপার(এএসপি) নাজির আহমেদ খানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে সেখানে গতিরোধক নির্মাণের আশ্বাস দিলে বেলা ১২টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।