নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ফোর মার্ডার মামলার প্রধান আসামি আবুল কাশেম ওরফে কাশু নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। সোমবার রাতে আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার গোপালদী বাজার সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডের বালুর মাঠে তার যোগদান উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম।
তার সঙ্গে আরো যোগ দিয়েছেন ঐ মামলার অন্যতম আসামি বিলুপ্ত সদাসদী ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল মেম্বার, বদরুদ্দিন আহম্মেদ, সামছুল হক মোল্লা, নাজীমউদ্দিনসহ তাদের সমর্থকরা।
এ ঘটনায় ঐ এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝেও।
স্থানীয়দের ধারনা, আলোচিত ফোর মার্ডার মামলার রায় ঘোষণার আগ মুহূর্তে মামলা থেকে রেহাই পেতে মামলার প্রধান আসামি আবুল কাশেম ওরফে কাশু চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।
কাশু চেয়ারম্যান ২০১৩ সালের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত আড়াইহাজারের গোপালদী পৌরসভার মেয়র পদে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন। ঐ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাছে পরাজিত হন। তিনি বিলুপ্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এছাড়া আড়াইহাজার উপজেলার বিএনপির সহ-সভাপতিও ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলামের ভাইসহ চরজনকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে হত্যার অভিযোগে আবুল কাশেম ওরফে কাশু চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর সেই মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২ নং আদালতে মামলাটির বিচার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
এপিপি ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন যুক্তিতর্ক চলছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা জানান, আবুল কাশেম কাশু উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি দাবি করলেও সে বিএনপির কোন পদে নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।