পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই হ্রদ থেকে উদ্ধার হওয়া হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠছে। বর্তমানে হাতিটি নজরটিলা এলাকার একটি স্থানে চিকিত্সাধীন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই কর্ণফুলী রেঞ্জের কলমিছড়া বিটের অফিস ঘোনা হতে বুধবার রাতে বন বিভাগ একটি ১৬/১৭ বছর বয়সী অসুস্থ দাঁতাল পুরুষ বন্যহাতিটি উদ্ধার করে।
রাঙ্গামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের (ডিএফও) সামশুল আজম জানান, বুধবার রাতে বন বিভাগের কর্মীরা কলমিছড়া এলাকার হ্রদের পানিতে ভাসমান অবস্থায় হাতিটিকে দেখতে পেয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। খবর পেয়ে এসিএফ সামশুল মুহির চৌধুরীকে হাতির অবস্থা জানতে নিদের্শ প্রদান করলে তিনি কাপ্তাই হ্রদের কলমিছড়া বিট এলাকায় গিয়ে নির্দেশ মোতাবেক তার নেতৃত্বে বন কর্মীরা হাতিটিকে রশি বেঁধে টেনে নজর টিলা এলাকার নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন। এরপর কাপ্তাই উপজেলা পশু চিকিসক ডা. তাহমিনা এটির প্রাথমিক চিকিত্সা করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম ভেটেনারী এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ৩জন অধ্যাপক ডা. বিবেক চন্দ্র সুত্রধর, ডা. ফরহাদ, ডা. ভোজন, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান হাতিটিকে চিকিত্সা দেন এবং গভীর পর্যবেক্ষেণে রাখেন এবং দিন রাত সুচিকিত্সার জন্য কাজ করেন।
তারা জানান, বর্তমানে পূর্বের তুলনায় হাতিটি একটু ভাল। কারণ হাতিটি প্রস্রাব করেছে এবং একটু নড়াচড়া করছে এবং পায়ের ফুলা কম দেখা যাচ্ছে। তবে একে সুস্থ করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে চলছি। ডাক্তার ফরহাদ হোসেন জানান, আহত বন্যহাতিরটির শরীরে কোন ফ্যাক্সার নেই তবে শরীরের পানি এসে গেছে। তবে এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়। বন বিভাগের বন কর্মকর্তা ও ডাক্তারগন ধারণা করছে হয়তো অন্যকোন হাতির সাথে মারামারি বা হিংস্র কোন প্রাণীর আঘাতের কারণে এভাবে আহত হয়ে জঙ্গল থেকে পানিতে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারছেনা।
খবর পেয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রাকীবুল হাসান মুকুল ও এসিএফ কাজল তালুকদার ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাত্ক্ষণিক ভাবে জরুরী চিকিত্সা সেবা পাওয়ার কারণে গতকাল শুক্রবার হাতটি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। হাতিটি সম্পুর্ন সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় বনে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান রাঙ্গামাটি দক্ষিন বন বিভাগের (ডিএফও) সামশুল আজম।