স্পিনেই বিভ্রান্ত জিম্বাবুয়ে



উপমহাদেশীয় উইকেট মানেই স্পিনাররা বাড়তি সাহায্য পাবেন; এমনটাই ভাবা হয়ে থাকে সব সময়। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই স্পিনের সাথে যুক্ত হল অনিয়মিত বাউন্স। তাতে সুবিধা হল বাংলাদেশি বোলারদের। আর নাকানি-চুবানি খেলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে অবশ্য স্পিন-বাউন্সে বিভ্রান্ত হওয়ার ব্যাপারটা পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারলেন না জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা, ‘উইকেটের ধরনটা আমরা বেশ ভালই বুঝতে পেরেছি। তবে, কয়েকটা ডেলিভারিতে আসলেই আমরা অবাক হয়েছি। কিছু বলে বাড়তি বাউন্স ছিল। এর বাদে বাকি সবই ঠিক ছিল। উপমহাদেশীয় উইকেটে আমরা লো-বাউন্সি উইকেটই আশা করেছি। এটাতে আমরা অভ্যস্ত নই।’

তবে, মাত্র ২৪০ রানে আউট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ জিম্বাবুয়ে। সেই হতাশা ঝরলো সিকান্দার রাজার কণ্ঠে, ‘দ্রুত অলআউট হয়ে যাওয়া সবচেয়ে হতাশার বিষয়। আমরা চেয়েছিলাম, কয়েকটা পার্টনারশিপ বের করে আনতে। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছি। যা হয়ে গেছে সেটা তো আর পরিবর্তন করতে পারবো না। পারবো হল, এসব থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে।’
ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার পর এবার বোলিংয়ে নজর দিচ্ছে সফরকারীরা। এই প্রসঙ্গে সিকান্দার রাজা বলেন, ‘এখন আমাদের কাজটা হল বোলিংয়ে ভাল করা। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের বোলারদের পারফরম্যান্স ভাল। সাথে ফিল্ডিংটাও ভাল হবে, দ্রুতই ওদের অলআউট করে ফেলতে পারবো আমরা। আশা করছি, আমাদের চেয়েও দ্রুত অলআউট হবে ওরা।’
দিনে জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান এই সিকান্দার রাজা। টেলরের উইকেট পতনের পর ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন এই ওপেনার। হাফ সেঞ্চুরিতেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপরই শেষ। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ বানিয়ে তাকেও ৫১ রানের মাথায় সাজ ঘরে পাঠিয়ে দেন লিখন। দিন শেষে লিখনের প্রতি শুভেচ্ছাই জানালেন রাজা, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অল্প অভিজ্ঞতা নিয়েও এমন পারফরম্যান্স সত্যিই বিস্ময়কর। ও সত্যি অনেক প্রতিভাবান। তবে, ব্যাটিং করার সময়, বোলার নয়, বলের দিকেই বেশি নজর থাকে আমাদের। তবে, ওকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তার প্রতি আমার শুভ কামনা থাকলো। আশা করি, সামনে ওর জন্য লম্বা একটা ক্যারিয়ার অপেক্ষা করছে।’