প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চাচাকে হত্যা

 
 
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চাচাকে খুন করেছিলেন সেলিম হোসেন (৩৫) এক ব্যক্তি। পরিকল্পনা মোতাবেক প্রতিপক্ষকে হয়রানিও করেছেন। কিন্তু শেষমেষ খুলে গেল মুখোশ। এক জোড়া সেন্ডেলের সূত্র ধরে উন্মোচিত হলো আবুল কালাম ওরফে ধওলা (৬০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ইসমাইল গড়েরপার গ্রামে।
২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি খুন হন আবুল কালাম। ঘটনার পরদিন সেলিম হোসেনের প্ররোচনায় আবুল কালামের বড় ছেলে কামরুজ্জামান বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। ঐ আসামিদের মধ্যে দুলাল হোসেন নামে একজন আট মাস এবং বাকিরা তিন মাস হাজত বাসের পর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন। আর মূল হোতা সেলিম হোসেন থেকে যান ধরাছোয়ার বাইরে। অবশেষে দীর্ঘ ১৮ মাস তদন্তের পর একজোড়া পায়ের সেন্ডেলের সুত্র ধরে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে সেলিম হোসেন ও তার ভাই শাহীন আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার তৃতীয় দফার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আরিফুর রহমান জানান, গ্রেফতারের পর আসামিরা অকপটে পুলিশের কাছে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। সেলিম হোসেন পুলিশকে বলেছেন, ‘হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন চাচাকে কিশোরগঞ্জ বাজারে নিয়ে আসি। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াই এবং হোটেলে কয়েক দফায় খাওয়া দাওয়া করাই। এরপর রাত ১০টার পর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে আমরা বাড়ি চলে যাই। হত্যার সময় চাচার লাশের কাছে আমার পায়ের সেন্ডেল জোড়া ফেলে এসেছিলাম।’
মামলার বাদী হত্যার শিকার আবুল কালামের ছেলে কামরুজ্জামান বলেন, আমার ভাই সেলিম যে হত্যা সাথে জড়িত তা আমি গত ৩ মাস আগে বুঝতে পারি। এরপর পুলিশ কে বিষয়টি গোপনে জানালে পুলিশ তদন্তের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে প্রথম থেকেই রহস্য ছিল। ফলে তদন্ত করতে সময় লাগছিল। সর্ব শেষ এক জোড়া পায়ের সেন্ডেলসহ আরো কিছু আলামতের সূত্র ধরে প্রকৃত খুনিরা ধরা পড়লো।