এইমসের উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী

 
 
 
 
এখন থেকে উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার বিভিন্ন সহায়তার তথ্য পাওয়া www.aims.erd.gov.bd ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এইড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এইমস হচ্ছে এমন একটি ওয়েব ভিত্তিক সফটওয়্যার যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে আসা উন্নয়ন সাহায্য সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য ও উপাত্তসমূহ অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আয়োজিত ওয়েব পোর্টালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ইউএসএআইডির বাংলাদেশ মিশনের পরিচালক এনিনা এরুজেলস্কি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. মেজবাহউদ্দিন। এ সময় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সচিব মো. মেজবাহউদ্দিন জানান— এইমস চালু হবার ফলে বাংলাদেশে আসা বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য ও উপাত্তসমূহ এইমস ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। বিভিন্ন দাতাসংস্থা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা, খাত বা অঞ্চল অনুযায়ী বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পসমূহের প্রতিশ্রুত ও ছাড়কৃত অর্থের পরিমাণও এইমসের মাধ্যমে জানা যাবে। বাংলাদেশ সরকার ও দাতাসংস্থাগুলো উভয়ই এই সিস্টেমের মাধ্যমে লাভবান হবে।
এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে বিভিন্ন ধরনের এইমস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ হচ্ছে খুবই সল্পসংখ্যক দেশগুলোর একটি, যারা নিজেরাই তাদের দেশি জনবলের মাধ্যমে এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেন্দেনিং ক্যাপাসিটি ফর এইড ইফেক্টিভনেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে এই সফটওয়্যারটি তৈরি করা হয়েছে।
উদ্বোনকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন— দীর্ঘ প্রতিক্ষিত অথচ প্রয়জনীয় এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশি এবং বৈদেশিক উত্স থেকে আগত সম্পদ সম্পর্কে সকলে অবগত হতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে সরকারের আহরিত সম্পদকে আরো বাস্তবমুখী ও প্রায়োগিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এইমসের তথ্য ভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে দাতাদের সহযোগিতা ছিল ঋণ-নির্ভর। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রতিষ্ঠা হয়েছে। পরবর্তীতে দাতাগোষ্ঠীর এ ঋণ পরিণত হয়েছে উন্নয়ন সহযোগিতা আকারে। ইউএসএআইডির বাংলাদেশ মিশনের পরিচালক বলেন, এইমসের মাধ্যমে বৈদেশিক সহযোগিতার সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে। বৃদ্ধিপাবে স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক জবাবদিহিতা।
এ সময় জানানো হয়, এইমসে তথ্য সরবরাহের জন্য বাংলাদেশে কর্মরত যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকে এইমসে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। এখন পর্যন্ত ১৭টি দাতা সংস্থা এইমসে রেজিস্ট্রেশন করেছে। তার মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাইকা, ইউএনডিপি, ইউএসএইড, কানাডা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ডি এফআইডিও বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এরই মধ্যে এইমসে তথ্য সরবরাহের কাজ শুরু করেছে। অদূর ভবিষ্যতে দেশের জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এই এইড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম খুবই সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে।