সেরাদের সেরা তাইজুল

 
যখন বাংলাদেশ ২২৬ রানে ৮ উইকেট হারায়, তখন মনে হয়েছিল বাংলাদেশ আর লিড পাচ্ছে না। দর্শকদের এমন হতাশার মাঝেও শেষ পর্যন্ত টাইগাররা লিড পেল কয়েক রানের, মাত্র ১৪। হোক সেটা অল্প, লিড তো। আশঙ্কা ছিল পারবে তো বাংলাদেশ! সাকিবের স্পিন ঝড়ে ২৪০ রানে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে কুপকাত। তিনি পান ছয় উইকেট। আর ব্যাটসম্যানদের অসতর্কতায় তিন রান আউটে ২৫৪ রানে অল আউট্ বাংলাদেশ।
বুকচাপা কষ্ট আর লজ্জা হচ্ছিল দর্শক সারিতে বসা সকলের। প্রথম এ টেস্টের প্রতি আগ্রহও হারিয়ে ফেলেন তারা। দর্শকদের এই  কষ্ট আর লজ্জাকে শক্তিতে পরিণত করে তৃতীয় দিনে মাঠে নামেন স্বাগতিকরা। তাইজুল ইসলামের বিধ্বংসি বোলিং তোপে দাঁড়াতেই পারল না জিম্বাবুয়ে। 
নাটোরের এই বাঁহাতি স্পিনারের ঘূর্ণিতে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১১৪ রানে অল আউট হন অতিথিরা। তাইজুল ৩৯ রান দিয়ে একাই নেন ৮ উইকেট।  ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেকে ৫ উইকেট পাওয়া তাইজুল এ সিরিজের প্রথম টেস্টে হয়েছেন ম্যাচ সেরা্ও। 
বাংলাদেশের পক্ষে কোনো টেস্টে এক ইনিংসে একক বোলারের সর্বাধিক উইকেট শিকার করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন তিনি। এর আগে ঘরের মাঠে ৩৬ রানে সাকিব পেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭ উইকেট। এছাড়াও এনামুল হক জুনিয়র জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৯৫ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। 
দিনের শুরুতেই তাইজুলের বলে মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সিবান্দা (১৪)। অন্যদিকে শাহাদাতের বোল্ডের শিকার হন মাসাকাদজা (৫)। এরপর ব্যক্তিগত ২৫ রানে তাইজুলের বলে সাকিবকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সিকান্দার রাজা (২৫)। দলীয় রান যখন ৫৮ তখন মাত্র এক বলের ব্যবধানে আরো দুইটি উইকেট নেন তাইজুল। শামসুলের ক্যাচে চাকাবা (১০) ও শুভাগতের ক্যাচে চিগুম্বুরা (০) সাজঘরে ফেরেন। দলীয় ৯২ রানের মাথায় তাইজুলের বলে এলবিডব্লিউ হন এরভান (১০)। বিরতির আগে সর্বশেষ আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ব্যক্তিগত ১ রান করে মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন নিয়াম্বু। মধ্যা‎‎হ্ন বিরতিতে যাবার সময় সফরকারীরা সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ৯৪ রান।
বিরতি থেকে ফিরে তাউজুলের আক্রমণের শিকার হন পানইয়াঙ্গারা (০), চাটারা (৪) ও কামুনগজি (০)।