বাবাকে খুঁজতে মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে হাসপাতালে ছুটছে সিএনজি চালক ইব্রাহীমের শিশুসন্তান বৃষ্টি। পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানসনে গত বুধবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন ইব্রাহীম। অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবারই মেয়েকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান ইব্রাহীমের স্ত্রী রোকসানা। কিন্তু সেখানে স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে ছুটে যান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে। সেখানেও স্বামীর কোনো খোঁজ পাননি রোকসানা। গত কয়েক দিন ধরে মায়ের সঙ্গে বাবাকে খুঁজে ফিরছে ছোট্ট বৃষ্টিও।
শনিবার স্বামীর সন্ধান পেতে ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে ডিএনএ নমুনা দেন রোকসানা। গতকাল রবিবারও মেয়েকে নিয়ে আবার ঢাকা মেডিকেলের মর্গে আসেন রোকসানা। বাবার সন্ধান পেতে বৃষ্টিও ডিএনএ নমুনা দেয়। মা পাশে থাকলেও তিনদিন ধরে বাবাকে দেখতে না পেয়ে মলিন হয়ে গেছে বৃষ্টির মায়াবি মুখ। ছলছল করছিল দুই চোখ। বাবার কথা শুনতেই কান্নায় যেন বৃষ্টির গলা আটকে আসছিল। অস্ফুট স্বরে বৃষ্টির মুখ দিয়ে শুধু বেরিয়ে এলো, ‘আমি আমার বাবাকে চাই। বাবা কোথায় আছে আপনারা জানেন? বাবাকে এনে দেন।’
এ সময় বৃষ্টির মা রোকসানা বলেন, আমার স্বামী ইব্রাহীম সিএনজি চালান। আমরা কামরাঙ্গীচরে থাকি। আমার স্বামী সিএনজি নিয়ে চকবাজার দিয়ে যাতায়াত করে। বুধবার অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে আমরা তাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে খুঁজে পেতে গতকাল আমি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে গিয়েছি। আজ আমার মেয়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। একজন বললো কিছু মৃতদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এখন সেখানে যাবো।’
চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত অজ্ঞাত ১৯টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ সব মরদেহ শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে ৩৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি। এদের মধ্যে শিশু বৃষ্টি ও তার মা রোকসানাও রয়েছেন।