এসএস ষ্টিল প্রীতি ম্যাচ

ফুটবলে শ্রীলংকাকে হারিয়ে সিরিজ জয়

 
 
 
যশোরে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ড্রয়ে বাধ্য হলেও রাজশাহীতে সফরকারীদের ১-০ গোলে হারিয়ে এসএস ষ্টিল প্রীতি ম্যাচ সিরিজটি জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। জাহিদ হাসান এমিলি পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন। আগের খেলাটির তুলনায় সিল্কের শহর রাজশাহীতে বাংলাদেশ সিল্কি ফুটবলই খেলেছে বলা যায়। আগের চেয়ে কিছুটা গোছানোও ছিল স্বাগতিকদের এদিনের খেলা। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে আরো গোল হতে পারতো।
দর্শক জয় দেখতে চায়। বাংলাদেশ দল জয় উপহার দিয়েছে। রাজশাহীর দর্শকরা কাল আছড়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে। যারা টিকিট পেয়েছেন তারা তো স্টেডিয়ামে গিয়েছেনই। আর যারা পাননি তারাও গিয়েছেন স্টেডিয়ামে। সেই ২০০০ সালে এই মাঠে এএফসি আন্তর্জাতিক যুব বাছাই ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রয়াত সংগঠক জাফর ঈমামের উদ্যোগে। ইরাকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এগিয়ে থেকেও ম্যাচটা ড্র করে গোল গড়ে বাদ পড়েছিল। সেদিন জিততে না পারলেও চৌদ্দ বছর পর পদ্মার পাড়ের ফুটবল অনুরাগীরা আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয় দেখলো। অবসান হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার।
দক্ষিন আফ্রিকার ভুভুজেলা বাঁশির কথা ফুটবল দর্শক যেন ভুলেই গিয়েছিল। সোমবার আবার সেটা মনে করিয়ে দিলো রাজশাহীর মানুষ। ভুভুজেলার কান ফাটানো আওয়াজে। স্টেডিয়ামের দর্শকরা তখনও নড়েচড়ে বসতে পারেনি। এরই মধ্যে এমিলি গোল করলেন পেনাল্টিতে। ম্যাচের প্রথম আক্রমনেই কর্নার। দ্বিতীয় আক্রমনে দ্বিতীয় কর্নার থেকে অধিনায়ক মানুলুল ইসলাম পেনাল্টি আদায় করলেন। সেই রোশান। লংকানদের ফ্রিকিক মাস্টার। যিনি যশোরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দারুন একটা গোল করে ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র করিয়েছিলেন।  সেই রোশান কাল রাজশাহীর মাঠে মামুনুলের ফাঁদে পড়েন। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলেন। এমিলি দারুণ একটা গোল করলেন পেনাল্টি থেকে ১-০। যশোরেও এমিলি গোল করেছিলেন। কিন্তু এই এমিলিকে কাল গোলের পর আর উজ্জীবিত দেখা গেলো না। রক্ষণভাগে নাসিরের সাথে ইয়াসিন, রায়হান হাসান, ইয়ামিন মুন্না, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জামাল ভুইয়া, মোনায়েম খান রাজু, আক্রমনভাগে পুরো স্টেডিয়ামের দর্শক মাতিয়ে দিয়েছেন মামুনুল ইসলাম, সোহেল রানা আর জাহিদ। একপাশে জাহিদ, অন্য পাশে সোহেল রানা। মাঝখানে এমিলি। কেন যেন এমিলি পা মিলিয়ে খেলতে পারলেন না সোহেল রানা আর জাহিদের সাথে। অনেকগুলো সুযোগ তৈরি কয়েছিল কিন্তু মাথা লাগাতে না পারা কিংবা পা লাগাতে না পারার কারণ ছিল বোঝাপড়ার ঘাটতি। এমিলিকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে মিঠুনকে স্ট্রাইকিং পজিশনে দেয়া হলে দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতে পারতেন কোচ সাইফুল বারী টিটু। কিন্তু মাংশপেশীতে ব্যাথা পাওয়ায় ৪৪ মিনিটে মাঠ থেকে উঠে যাওয়া মামুনুল ইসলামের পরিবর্তে মিঠুনকে দেয়া হলো লেফটউইংয়ে। শেষ পর্যন্ত মিঠুনকেও মাঠে রাখতে পারেননি কোচ টিটু। দ্বিতীয়ার্ধে জাহিদ দারুন একটা বল এমিলির মাথায় তুলে দিয়েছিলেন। এমিলি হেড করলেন বাইরে। কোচ পজিশন বদলাতে গিয়ে মিঠুনের পরিবর্তে স্ট্রাইকার ওয়াহেদকে মাঠে নামান। আর এবারও জাহিদকে ৯০ মিনিট খেলার সুযোগ দিলেন না কোচ। তার বদলে ডিফেন্ডার লিংকনকে নামালেন। 
রাজশাহীর দর্শক মুখিয়ে ছিলেন আরো গোল দেখার জন্য। কারন তারাও বুঝতে পারছিলেন এক গোলে কোনো ভরসা নেই। সেই সাথে জাহিদের জাদুময় আর সোহেল রানার ড্যাশিং ফুটবল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। একজন দুইজন করে ডজ দিয়ে শ্রীলংকার গোল মুখে বল ফেলার উত্তেজনাকর ছবিগুলো দর্শকদের মনে থাকবে। জাহিদ, সোহেল রানা বল পেলেই উল্লাসে ফেটে পড়েন দর্শক। খেলাটা শেষ হলে স্টেডিয়ামের দর্শকরা জাহিদ, সোহেল রানার সাথে ছবি তুলতে ভীড় ঠেলে কাছে এলেন। অধিনায়ক মামুনুলকে পেয়ে যেন আরো খুশি দর্শক। সাথে পেলেন এমিলি আর ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভুইয়াকে। অনেক দিন পর ফুটবলাররা দর্শকদের ভীড় ঠেলে বেরিয়ে আসতে পারছিলেন না।
প্রীতি ম্যাচ হলেও বাংলাদেশের এই জয়টা ফুটবলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। যশোর এবং রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দুটি এই অঞ্চলের ফুটবলে ব্যপক সাড়া ফেলেছে। খেলা হলে এবং ভালো খেলা হলে দর্শক ছুটে আসে মাঠে। সেটা নতুন করে ফুটবল সংগঠকদের জানান দিল এ দুটি খেলা।
শ্রীলংকার সার্বিয়ান কোচ নিকোলা কাভাজোভিচ খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান। তার সব ক্ষোভ গিয়ে পড়লো রেফারি মিজানুর রহমানের উপর। শ্রীলংকার অভিযোগ রেফারী লংকানদের বিরুদ্ধে বাঁশি বাজিয়েছেন। কিন্তু কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে এটা হয়েছে তা পরিস্কার করেন নি তিনি। তবে ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউটের পাশে দাঁড়ানো নিকোলাকে রেফারীর বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে একবার পানির বোতল হাতে নিয়েছিলেন। তবে কোচ চলে যাওয়ার পর লংকান দলের ম্যানেজার ব্লেন্দেরা অ্যান্থনিও অবম্য বলেন, ‘প্লিজ আপনারা কিছু মনে করবেন না। কোচ যা বলেছেন সেটা উনার ব্যক্তিগত মতামত।’
বাংলাদেশ ঃ রাসেল মাহমুদ লিটন, নাসির চৌধুরি, ইয়াসিন খান, রায়হান হাসান, ইয়ামিন আহমেদ মুন্না (তপু বর্মন),  জামাল ভুইয়া, সোহেল রানা, মোনায়েম খান রাজু  (হেমন্তু ভিনসেন্ট), মামুনুল ইসলাম (মিঠুন) (ওয়াহেদ আহমেদ), এমিলি (তকলিস)। রেফারি ঃ মিজানুর রহমান।