চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৭ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে ১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। আর ২০১৩ সালের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আয় শতকরা ৬ দশমিক ১০ ভাগ বেশি হয়েছে। কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য তুলে ধরে গ্রামীণফোন।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিব অফিসার (সিইও) বিবেক সুদ বলেন— প্রধানত ভয়েস, ডাটা ব্যবহার, এসএমএস এবং কনটেন্ট সেবা থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির কারণে প্রথম নয় মাসে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আন্তসংযোগ রাজস্ব বৃদ্ধি, ডিভাইস বিক্রয় বৃদ্ধি, হোলসেল এবং ফিনান্সিয়াল সার্ভিস খাতও প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে সেবা থেকে অর্জিত রাজস্বের প্রবৃদ্ধি প্রধানত ফুটবল বিশ্বকাপ এবং শেষের দিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কম হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে কল টার্মিনেশন রেট ৫০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক আন্তসংযোগ আয় কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) অ্যালান বনকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্রামীণফোন চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) দিলিপ পাল বলেন— গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রদত্ত সেবা থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ডিভাইস ও অন্যান্য খাত থেকে আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার কম ছিল, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪ ভাগ বেশি মাত্র।
চলতি বছরে গ্রামীণফোন গ্রাহক সংগ্রহ করেছে ৪২ লাখ ৫০ হাজার। ফলে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৯ লাখ, যা মোট মার্কেট শেয়ারের ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ। টেলিকম শিল্পের আনুমানিক ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় গ্রামীণফোনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের ২০ শতাংশ অর্থাত্, এক কোটি ২ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে এ বছরের প্রথম নয় মাসে কর, ভ্যাট, শুল্ক এবং লাইসেন্স ফি আকারে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা জমা দিয়েছে, যা কোম্পানির মোট রাজস্বের ৬১ ভাগ।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের ৫ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করায় শেয়ারহোল্ডারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবেক সুদ বলেন, গ্রামীণফোন উদ্ভাবনী এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা ও পণ্যের মাধ্যমে ৫ কোটি গ্রাহকের বিশাল মাইলফলক অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তীব্র প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কিছু প্রতিকুলতার কারণে প্রবৃদ্ধির ধারা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে আগামীতে শ্রেণিভিত্তিক পদ্ধতি এবং মাঠ পর্যায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন গ্রামীণফোনকে তার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আরও লাভজনক করবে মনে করেন তিনি।