বিদ্রোহ দমনে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে ৮ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশ। এতে কেন্দ্রের দুই কিশোর আহত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। অন্তরীণ কিশোরদের ‘জারজ’ বলে গালি দেয়ার অভিযোগ তুলে এ বিদ্রোহ করে কিশোররা।
পরে কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ও পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রে দায়িত্বরত ৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ মে কিশোররা নির্যাতনের প্রতিবাদে বিদ্রোহ করেছিল।
সূত্র জানায়, বুধবার সকালে রাব্বী নামের একজন কিশোর জামিনে মুক্তি পায়। দিনাজপুর থেকে তার বাবা তাকে নিতে আসেন। তার মুক্তির সময় কিশোররা জটলা করে। এ সময় কেন্দ্রের একজন হাবিলদার বিরক্ত হয়ে বলে উঠেন এখানে যেসব ছেলেরা থাকে তারা সবাই ‘জারজ সন্তান’। একথা শোনার পর কিশোররা জোটবদ্ধ হয়ে ঐ হাবিলদারের ওপর চড়াও হয়। কিন্তু তখন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বিকেলে রুবেল ও রায়হানসহ বেশ কয়েকজন কিশোর মাঠে খেলছিল। এ সময় হাবিলদার মোস্তফা তাদের বিরুদ্ধে একশ টাকা ও সিগারেট চুরির অপবাদ দিয়ে মারপিট করতে উদ্যত হন। এ সময় কিশোররাও পাল্টা তার চড়াও হয়। এতে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ ৮ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে রায়হান ও রুবেল আহত হয়।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহজাহান মিয়া বলেন, পুলিশ সদস্যের সাথে বিরোধের জের ধরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের ছোঁড়া টিয়ার সেলে দুজন কিশোর আহত হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনামুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে কেন্দ্রে কর্তব্যরত ৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
গুলিবর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক জানান, পুলিশের সঙ্গে কিশোরদের বিরোধে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু কোনো সংঘর্ষ হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক জানান, পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে।