৭৮ বছরেও বয়স্ক ভাতা পান না জীবন নেছা

রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ১নং মহল্লায় থাকেন জীবন নেছা। বয়স জাতীয় পরিচয়পত্র (৬৭১৬৮৫৫৮২৭৬৪২) অনুযায়ী ৭৮ বছর। স্বামীকে হারিয়েছেন ১৫ বছর আগে। অভাব তার নিত্যসঙ্গী। সরকারি বিধিমোতাবেক এতদিনে তার বিধবা ভাতা পাবার কথা ছিল; কিন্তু ভাগ্যে জোটেনি তা। মানুষের বাড়িতে কাজের বিনিময়ে পাওয়া দুমুঠো খাবার খেয়ে কোনোমতে জীবন পার করছেন  জীবন নেছা। বয়সের ভারে আগের মতো আর কাজ-কর্ম করতে পারেন না। আগামী দিনগুলো কিভাবে চলবে, এই ভেবে তিনি দিশাহারা।

বিধিমোতাবেক পুরুষের ৬৫ আর নারীর ৬২ বছর বয়স হলেই বয়স্ক ভাতা পাবার কথা। রূপগঞ্জ উপজেলার ১৫ হাজারের অধিক সংখ্যক নারী ও পুরুষ পাচ্ছেন বয়স্ক ভাতা। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মদদপুষ্ট, সমর্থক ও আত্মীয়-স্বজন না হলে দেওয়া হয় না বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। উপজেলা প্রশাসনের লোকজনও তা সঠিকভাবে তদারক না করায় প্রকৃত গরীব ও অসহায়রা বঞ্চিত থাকেন সরকারের এ সেবা থেকে। অভিযোগ রয়েছে, কার্ডের জন্য জীবন নেছা ধরনা দিয়েছিলেন স্থানীয় এক নেত্রীর কাছে। তার দাবিকৃত ৫ হাজার টাকা দিতে না পারায় বয়স্ক ভাতার কার্ড পাননি তিনি। স্থানীয়দের প্রশ্ন- সরকারের সুবিধাভোগী যাদের হওয়ার কথা তারা কেন বঞ্চিত হচ্ছে? 

এ প্রসঙ্গে কথা হয় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোলাইমান হাসানের সঙ্গে। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি ও ইউপি সদস্যদের বাছাই কমিটির সদস্য করা হয়। তাদের বাছাইকৃত তালিকা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া হয়; কিন্তু চনপাড়ার জীবন নেছাকে কোনো তালিকায় রাখা হয়নি। তাই তিনি কার্ড পাননি। তবে বিষয়টা এখন ভেবে দেখবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম বলেন, জীবন নেছার মতো প্রকৃত হতদরিদ্র যারা কার্ড পাচ্ছেন না তাদের  শীঘ্রই সুবিধাভোগীদের আওতায় আনা হবে।