রাজশাহীতে পুলিশ পরিচয়ে যুবককে গুলি করে হত্যা, প্রবাসীর স্ত্রী আটক

 
রাজশাহীর দুর্গাপুরে পুলিশ পরিচয়ে রাজু আহমেদ (২৫) নামে এক যুবককে ঘুম থেকে ডেকে তুলে গুলি করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত রাজু উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী প্রবাসী ওয়াজ নবীর স্ত্রী রিমা খাতুনকে (৩২) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জমিজমা ও প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া নিয়ে এই হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার ‘ক্লু’ উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রবাসীর স্ত্রী রিমা খাতুনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী রাজুর দাদী শাহীনার (৬২) উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি আরো জানান, রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ পরিচয়ে ৪/৫ ব্যক্তি বাড়িতে এসে তার ছোট ছেলে (রাজুর চাচা) শহীদুলকে ডাক দেয়। এ সময় ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে যাওয়া মাত্র তারা রাজুর মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং কোমরে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। রাজুর চিত্কারে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরী বিভাগের চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজুকে শহীদুল ভেবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি জানান, সম্প্রতি নওগাঁর মান্দার এক যুবককে ওয়াজ নবীর বাড়ি থেকে আটকের ঘটনায় স্থানীয়রা ঐ যুবক ও রিমাকে গণপিটুনি দিতে উদ্যত হয়। ঐ সময় রাজুর চাচা শহীদুল তাদের রক্ষা করেন। রিমার সঙ্গে শহীদুলের কোনো অনৈতিক সম্পর্ক ছিল কি-না বা জমির বিরোধে হত্যাকাণ্ড ঘটলো কি-না? খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে ময়না তদন্ত শেষে রাজুর লাশ রামেক হাসপাতালে রাখা হয়েছে। রাজুর চাচা মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর রহিম দেশে ফিরলে লাশ দাফন করা হবে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা শহীদুল ইসলাম থানায় হত্যা মামলা করেছেন।