প্রায় পাঁচ বছর পর ভারতের মাটিতে খেলবে শ্রীলংকান ক্রিকেট দল। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে দেশের মাটিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিলো ভারত।
সূচিতে হঠাৎই যোগ হওয়া পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও শ্রীলংকা। বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় শুরু হবে খেলাটি।
চলতি মাসের শুরুতে পাঁচটি ওয়ানডে, একটি টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ও তিনটি টেস্ট খেলতে ভারত সফরে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বোর্ডের সাথে খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব থাকায় সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডের পরই সফর বর্জন করে দেশে ফিরে যায় ক্যারিবীয় খেলোয়াড়রা। আর তাতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায় দ্য বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই)। চিন্তার ভাঁজের তালিকায় প্রথমটি ছিলো- ‘আর্থিক ক্ষতি’।
ক্রিকেট বিশ্বের দামী বোর্ড হয়েও ‘আর্থিক ক্ষতি’ নিয়ে চিন্তা করতে হয় বিসিসিআই-কে। আর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তড়িঘড়ি করে শ্রীলংকান ক্রিকেটে বোর্ডের দরজায় কড়া নাড়ে বিসিসিআই। লংকানদের সাথে সিরিজ আয়োজন করার প্রস্তাব দেয় বিসিসিআই। সেই প্রস্তাবে ছিল পাঁচটি ওয়ানডে। আর তাতে ‘হ্যাঁ’ সূচক ইঙ্গিত দেয় লংকান বোর্ড। ফলে ২ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি ওয়ানডে হঠাৎই যোগ হয় ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের সূচিতে।
হঠাৎ সূচির ফলে পাঁচ বছর পর আবারো দেশের মাটিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলার সুযোগ পেল ভারত। এতে বেশি খুশী বিসিসিআই। কারন নিজেদের ইচ্ছামত সিরিজ আয়োজন করা গেছে দ্রুতই। আরও খুশী ভারত দলটিও। কারন এর আগে আটবার ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে শ্রীলংকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত একবারও সিরিজ জিততে পারেনি ওয়ানডে বিশ্বকাপের রানার্স-আপরা। তবে ১৯৯৭ সালে তিন ম্যাচের সিরিজ ড্র করে সর্বোচ্চ সাফল্যের মাত্রায় কিছু হলেও রাখতে সক্ষম হয়েছে শ্রীলংকা।
এবারের সিরিজকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছে ভারত ও শ্রীলংকা। তাই ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে দল নামছে ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। আর তা করতে গিয়ে প্রথম তিন ওয়ানডেতে নিয়মিত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে বিশ্রাম দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। সেক্ষেত্রে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব গিয়ে পড়েছে বিরাট কোহলির কাঁেধ।
অধিনায়কত্ব পেয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত নন কোহলি। কারণ ভারতের জার্সি গায়ে অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। তাই অধিনায়কত্ব নিয়ে খুব বেশি না ভেবে সিরিজ নিয়ে মনোযোগী হতে চান কোহলি, ‘অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবার কিছুই নেই। সিরিজ নিয়েই বেশি ভাবনা আমার। দেশের মাটিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে রেকর্ড আমাদের খুবই ভালো। এটা অব্যাহত রাখতে চাই। শ্রীলংকা বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলাই মূল লক্ষ্য আমাদের।’
কিছুদিন আগেও ফর্ম নিয়ে চিন্তাটা বড় আকারই ছিল কোহলির কপালে। সেই শংকা কিছুটা হলেও কেটেছে। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ১৯১ রান করেছেন তিনি। এরমধ্যে ১টি হাফ-সেঞ্চুরি ও ১টি সেঞ্চুরিও ছিল। তাই ফর্ম নিয়ে চিন্তাটা কমই কোহলির। তারপরও রান নিয়ে চিন্তাটা করতেই হচ্ছে তাকে। কারণ আরও একটি রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে কোহলি।
দ্রুত ৬০০০ রানের মাইলফলক ছোয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে কোহলির সামনে। বর্তমানে রেকর্ডটি দখলে রেখেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস। ১৫৬ ম্যাচে ১৪১ ইনিংসে ১৯৮৯ সালে ৬০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন রিচার্ডস। আর কোহলির বর্তমান ব্যাটিং পরিসংখ্যান বলছে, ১৪১ ম্যাচে ১৩৩ ইনিংস খেলে ৫,৮৭৯ রান করেছেন। তাই রিচার্ডসের রেকর্ড ভঙ্গ করতে হলে পরবর্তী ৭ ইনিংসে মাত্র ১২১ রান করতে হবে কোহলিকে। সেটি কোহলির জন্য কতটা সহজ, আর কতটা কঠিন তা ভবিষ্যতই বলে দেবে।
শ্রীলংকার বিপক্ষে নামার আগে সদ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ভারত। তবে প্রায় একমাস হল ক্রিকেট থেকে দূরে রয়েছে শ্রীলংকা। সর্বশেষ আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ব্যাট-বল হাতে মাঠে নেমেছিলো সাঙ্গাকারা-ম্যাথুজরা।
তাই সূচিতে হঠাৎ এই সিরিজ যোগ হওয়ায় বেশ ক্ষুব্ধও হয়েছেন শ্রীলংকার সিনিয়র খেলোয়াড়রা। তারপরও দুই বোর্ডের বিষয়কে খুব বেশি আমলে না নিয়ে সিরিজ নিয়ে মনোনিবেশ করতে চান লংকান দলপতি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, ‘হঠাৎ করে এমন সিরিজ পড়ে যাওয়ায় আমরা বেশ বিব্রত হয়ে গিয়েছিলাম। তবে এটি খুব বেশি ভাবতে চাই না। এখন সব কিছুই স্বাভাবিক। তাই সিরিজ নিয়ে বেশি ভাবতে চাই। সিরিজে ভালো পারফর্ম করা নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনাও সাজাতে চাই।’
মূল লড়াইয়ে নামার আগে একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচও খেলেছে শ্রীলংকা। ভারত ‘এ’ দলের কাছে ৮৮ রানে হেরেছে সফরকারীরা। বল হাতে প্রস্তুতিটা ভালো না হলেও, ব্যাট হাতে নিজেদের ভালোভাবে ঝালিয়ে নিয়েছে শ্রীলংকা।
ভারত স্কোয়াড : বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), ভারুন আরোন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, শিখর ধাওয়ান, রবীন্দ্র জাদেজা, ধাওয়াল কুলকার্নি, অমিত মিশ্র, অক্ষর প্যাটেল, আজিঙ্কা রাহানে, সুরেশ রায়না, আম্বাতি রাইদু, ঋদিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), ইশান্ত শর্মা, মুরালি বিজয় ও উমেশ যাদব।
শ্রীলংকা স্কোয়াড : অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (অধিনায়ক), চাতুরঙ্গা ডি সিলভা, নিরোশান ডিকবেলা, তিলকরতেœ দিলশান, লাহিরু গামেগা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, সুরাজ রনদিব, নুয়ান কুলাসেকেরা, কুশল পেরেরা, থিসারা পেরেরা, ধাম্মিকা প্রসাদ, সেকুজ্জি প্রসন্ন, আশান প্রিয়াঞ্জন, কুমার সাঙ্গাকারা (উইকেটরক্ষক) ও উপুল থারাঙ্গা।