চলতি মাসেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে পেট্রোবাংলা। এরপর বিইআরসি শুনানিসহ সব প্রক্রিয়া শেষ করে দাম নির্ধারণ করবে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, আবাসিক খাতে এক চুলার গ্যাসের দাম ৪০০ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা, দুই চুলা ৪৫০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা, আবাসিকে মিটার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি হাজার ঘনফুট ১৪৬ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুেকন্দ্রে প্রতি হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের জন্য ৭৯ টাকা ৮২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা, বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ২৬৮ টাকা শূন্য ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা, শিল্প গ্রাহকদের ১৬৫ টাকা ৯১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২০ টাকা, চা বাগানে ১৬৫ টাকা ৯১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা, ক্যাপটিভে ১১৮ টাকা ২৬ পয়সা বাড়িয়ে ২৪০ টাকা এবং সার কারখানায় ৭২ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সিএনজিতে প্রতি হাজার ঘনফুটে ৮৪৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ১৩২ টাকা ৬৭ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, সব ধরনের গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও সবচেয়ে বেশী বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে আবাসিক খাতের গ্রাহকদের জন্য। মূলত: আবাসিক খাতে গ্যাসের ব্যবহার নিরুত্সাহিত করতে দাম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৯ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। এরপর ২০১২ সালের ২০ মে পেট্রোবাংলা বিইআরসিতে আবাসিক গ্রাহকদের ছাড়া অন্য খাতগুলোতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এ খাতে লোকসান নেই বলে বিইআরসি সে সময় দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। তবে এখন আগের চেয়ে পেট্রোবাংলার মুনাফা বাড়লেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া এ খাতে সরকারের কোনো ভর্তুকিও নেই। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিদেশি ও দেশি কোম্পানির কাছ থেকে পেট্রোবাংলা সাত হাজার ৮২৯ কোটি টাকার গ্যাস কিনেছে। একই বছর বিক্রি করেছে ১১ হাজার ৫৮ কোটি টাকার গ্যাস। লাভ হয়েছে তিন হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, দেশে গ্যাসের সংকট রয়েছে। এই সংকট মেটাতে তরল গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরল গ্যাস আমদানি করা হলে গ্যাসের দাম অনেক বেড়ে যাবে। এ জন্য গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে। ২০০৯ সালের পর গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে গ্যাস, বিদ্যুত্ ও তেলের দাম বাড়ালে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী’ ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সরকার ইচ্ছে মত সব কিছুর দাম বাড়িয়ে মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।
কর্মসূচিতে লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আবু সালেহ’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আবিদুর রেজা চৌধুরী, খালেদ এনাম মুন্না, আবু জুবায়ের, ছড়াকার ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার প্রমুখ।