নেত্রকোনায় পৃথক ঘটনায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

নেত্রকোনায় পৃথক দুইটি  রায়ে  মাকে হত্যার দায়ে পাষ- পুত্র এবং স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৫ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে।  অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হামিদ এ দ- দেন।  
সোমবার পৌনে ১২টার দিকে এ রায় প্রদান করা হয়।  মাকে হত্যার দায়ে দ-িত আসামি হলেন- বারহাট্টা উপজেলার পূর্ব মোয়াটি গ্রামের ইয়াহিয়া এবং জাহাঙ্গীরকে হত্যার অভিযোগে দ-িত আসামি হলেন- স্ত্রী খায়রুন্নাহার এবং তার প্রেমিক সোহেল মিয়া।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ, জেলার বারহাট্টা উপজেলার পূর্ব মোয়াটি গ্রামের আব্দুর রেজ্জাকের বখাটে পুত্র ইয়াহিয়া (২২)  উশৃংখল জীবন যাপন করে আসছিল।  ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর  সকাল সাড়ে ৭টার সময় মা আয়শা আক্তার ওরফে নয়ন তারা (৫৫) স্বামীর বাড়ির পেছনে বাঁশের গুড়া উঠাতে থাকলে পুত্র ইয়াহিয়া (২২) সেখানে গিয়ে মায়ের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে পুত্র ইয়াহিয়া কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মাকে নৃসংশভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে নিহত আয়শার স্বামী আব্দুর রেজ্জাক বাদী হয়ে ঐ দিনই পুত্রের বিরুদ্ধে বারহাট্টা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।   
অপরদিকে একই উপজেলার আশিয়ল গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের (৩২) সাথে একই গ্রামের খায়রুন্নাহার ওরফে ডলির (২৪) বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই ডলি স্বামীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ঝগড়া লাগিয়ে স্বামীকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসেন। ডলি তার পূর্ব প্রেমিক সোহেল মিয়ার (২৮) সাথে অবৈধ মেলামেশা করতে থাকেন। বিষয়টি স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানতে পেরে স্ত্রীকে সোহেলের সাথে মেলামেশা করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায়শই ঝগড়া হতো।  ২০০৬  সালের ২১ ডিসেম্বর রাতে প্রেমিক যুগল পূর্ব পরিকল্পনা মতো স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাড়ির পেছনে জঙ্গলে গাছের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। এ ব্যাপারে নিহতের বড় বোন মোছা. শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২২ ডিসেম্বর খায়রুন্নাহার ওরফে ডলি ও সোহেল মিয়াকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।