যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সোমবার সর্বোচ্চ আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর পর গাইবান্ধায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে র্যাব-পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় শিবির-কর্মীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে র্যাব-পুলিশ সদস্যরা ১৪৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ও এক রাউন্ড টিয়ারসেল ছুড়ে। এ সময় চার পুলিশ আহত হয়। পুলিশ ওই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতা-কর্মী আটক করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহত ও আটকদের নাম জানা যায়নি।
রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মহেশপুর এলাকার ব্র্যাক মোড়ে সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সকাল পৌনে ১০ টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ধাওয়া করে। কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে র্যাব-পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পাল্টা ধাওয়া দেয়ার চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে র্যাব-পুলিশও কয়েক রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। তিনি আরো জানান, থেমে থেমে বেলা দুইটা পর্যন্ত জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থেকে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
তবে উপজেলা ইসলামি শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ও জামায়াতের রোকন তাজুল ইসলাম মিলন দাবি করেন, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সোমবার সর্বোচ্চ আদালত চূড়ান্ত রায়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রইব্যুনালের দেয়া সাজা বহাল রাখার প্রতিবাদে তারা ওই এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল। এ সময় পুলিশ-র্যাব তাদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে। এতে পাঁচ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানাতে রাজি হননি।
গাইবান্ধা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পলাশবাড়ীতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।