টেন্ডুলকারের চ্যাপেল-বোমা!

 
শচীন টেন্ডুলকার মানেই বিতর্কের উর্ধ্বে থাকা, হট্টগোল এড়িয়ে থাকা—এই ধারণাটা গুড়িয়ে দিতেই চলেছে তার আত্মজীবনী। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ভারতীয় ব্যাটসম্যানের আত্মজীবনী ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে’ প্রকাশের আগে আগে ঝড় শুরু হয়েছে আরও অনেকের আত্মজীবনীর মতোই।
প্রথম দিনই বইয়ের অংশ বিশেষ যা প্রকাশ হয়েছে, তাতে যথেষ্ঠ বিতর্কের উপকরণ ছিল। কিন্তু মোমবার তাজ্জাব করে দিয়েছে বইয়ের আরও কিছু নির্বাচিত অংশ। এই অংশে ভারতের সাবেক কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের খোলাখুলি সমালোচনা করার পাশাপাশি এই অস্ট্রেলিয়া সিনিয়র ক্রিকেটারদের, বিশেষ করে সৌরভের কিভাবে সর্বনাশ করছিলেন, তা খুলে বলেছেন। একটার পর একটা ভেতরের খবর ফাঁস করে দিয়ে টেন্ডুলকার গ্রেগ চ্যাপেলকে সার্কাসের ‘রিং মাস্টার’ হিসেবে অবিহিত করেছেন!
একটা জনশ্রুতি ছিল যে, চ্যাপেল তার জামানায় সৌরভসহ অন্য সিনিয়রদের পায়ে ঠেললেও দ্রাবিড়ের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু চ্যাপেল যে দ্রাবিড়েরও পিঠে ছুরি মারতে চেয়েছিলেন, সেটা বলেছেন টেন্ডুলকার। ২০০৭ বিশ্বকাপের আগে আগে নাকি দ্রাবিড়কে হঠিয়ে টেন্ডুলকারকে অধিনায়ক করতে চেয়েছিলেন চ্যাপেল, ‘বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগে চ্যাপেল একদিন আমার বাসায় এসেছিলো। আমাকে তাজ্জাব করে দিয়ে বললেন, রাহুল দ্রাবিড়কে সরিয়ে আমার অধিনায়ক হওয়া উচিত। অঞ্জলি আমার পাশে বসা ছিল। আমরা দু জন হতভম্ব হয়ে শুনলাম, সে আমাকে বলছে—চলো, আমরা লম্বা সময় ধরে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ করি। সে আমাকে অধিনায়কত্ব পেতে সাহায্য করবে বলেও বললো! আমি অবাক হয়ে গেলা, একজন কোচ কী করে দলের অধিনায়ককে এতোটুকু সম্মান না দিয়ে কথা বলতে পারে!’
টেন্ডুলকার এই ঘটনার পরপরই নাকি বিসিআইয়ের কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, চ্যাপেলকে বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে নেওয়া ঠিকই হবে না। তাহলে বিপদ হতে পারে। কার্যত প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া ভারত সে বিপদ টেরও পেয়েছিল।
আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটের ভুরি ভুরি রেকর্ডের মালিক টেন্ডুলকার বলেছেন, চ্যাপেল কার্যত সব প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়ের পথে কাঁটা বিছিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটকে পিছিয়ে দিয়েছেন। ভিভিএস লক্ষণের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে টেন্ডুলকার বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না যে, এটা বলা অন্যায় হবে যে, আমরা বুঝতে পারছিলাম, গ্রেগ চ্যাপেলের অধীনে ভারতীয় ক্রিকেট ধ্বংসের দিকেই যাচ্ছে। একের পর এক সিনিয়রদের এলোমেলো করে দিচ্ছিল সে। একদিন সে লক্ষনকে বললো, তার ওপেন করা উচিত। লক্ষন না করলো। তখন তার (চ্যাপেলের) উত্তর শুনে আমরা অবাক। সে বলে, এই কথা না শুনলে লক্ষণের এই বয়সে দলে থাকা কঠিন হবে।’
স্বাভাবিকভাবেই চ্যাপেলের এই কান্ডের সবচেয়ে বড় শিকার ছিলেন তাকে ভারতে আনা সৌরভ গাঙ্গুলি ও ক্রিকেটে তার অনুসারীরা। সৌরভের সুপারিশে চ্যাপেলকে আনার ঘটনা উল্লেখ করে টেন্ডুলকার লিখেছেন, ‘সে প্রকাশ্যে আমাকে একবার বললো, সৌরভ তাকে এই চাকরি পাইয়ে দিয়েছে বলে, সে সারা জীবন সৌরভের পক্ষে থাকবে না। আরে, ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা এক ক্রিকেটার হল সৌরভ। আমি খোলাখুলি বলছি, তার দলে থাকতে চ্যাপেলের পক্ষপাতের কোনো দরকার ছিল না।’
চ্যাপেলের প্রতি টেন্ডুলকারের এই ক্ষোভটা কখনোই সেভাবে এর আগে প্রকাশ পায়নি। এবার টেন্ডুলকার যেন মনের সব রাগ উগরে দিয়েছেন। চ্যাপেলকে সুবিধাবাদী একজন মিডিয়াপ্রিয় লোক হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন। বলেছেন, জিতলে সবার আগে চ্যাপেল সংবাদ সম্মেলনে যেতেন। কিন্তু ম্যাচ হারলে খেলোয়াড়দের ঠেলে দিতেন।
চ্যাপেল সম্পর্কে এসব অভিযোগ অনেক পুরোনো। কিন্তু এই হাই প্রোফাইল অভিযোগকারীর কথাবার্তা কী ঝড় তোলে, সেটাই এখন দেখার।