অন্য রূপে নতুন তামিম

 
 
৪৩৩ রান। টেস্টে অনেক বেশি রান নয়। কিন্তু এই রান সংগ্রহে দর্শকরা দেখল নতুন তামিমকে, নতুন বাংলাদেশকে। তামিম স্বভাবসুলভ ব্যাটিং ভুলে ধীর গতিতে অগ্রসর হয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে গড়েছেন সবচেয় বেশি ৩৩২ বল খেলে সেঞ্চুরির রেকর্ড। তারই ভাই নাফিস ইকবাল নয় বছর আগে  জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১০০ তে পৌঁছাতে খেলেছিলেন ৩২৯ বল। 
গতকালের ২৫০ বল খেলে ৭৪  রানের ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করেছে। তিনি প্রায় আট ঘণ্টা (৪৭৩ মিনিট)  ক্রিজে থেকে মোট ৩৩২ বল খেলে রান করেছেন ১০৯। বেশি সময় ব্যাট করার রেকর্ড আমিনুলের। তিনি খেলেছিলেন ৫৩৫ মিনিট।
তামিম ধীর-স্থীর ব্যাটিংয়ে ছাড়িয়ে গেলেন নিজের আগের রেকর্ডকেও। এর আগে তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘস্থায়ী ইনিংসটি ছিল ৩১১ মিনিটের। ২০০৯ সালে সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলে করেছিলেন ১২৮ রান। এর আগের নিদর্শনটির ভেন্যু হল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০২ মিনিটে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৭০ রান।
এটা তার নবম সেঞ্চুরি,  জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম। ২০২ ম্যাচে ২৩৪ ইনিংসে এই অর্জন পুরো করেন তামিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মোহাম্মদ আশরাফুলের নয়টি সেঞ্চুরি স্পর্শ করলেন তিনি। সাকিবের সেঞ্চুরি আটটি।  ৫০-এ পা রাখতে তিনি মোকাবেলা করেন ১৬৯ বল। আগের রেকর্ডটিও অবশ্য খুব বেশি দিনের পুরনো নয়। গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই দ্বিতীয় টেস্টেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেন্ট লুসিয়ায় ৫০ করতে তার লাগে ১৪৬ বল।
তিনি এখন মালিক হয়ে গেলেন সাত হাজার আন্তর্জাতিক রানের। সব ফরম্যাট মিলিয়ে তামিমের রান  ৭০৭৫। তার কাছেই আছেন সাকিব আল হাসান। এই টেস্টে তার সেঞ্চুরির সুবােধ আন্তর্জাতিক ক্যরিয়ারে রান দাঁড়ায় ৭০১২। তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। 
তামিমের সর্বশেষ সেঞ্চুরি এসেছিল চার বছরেরও বেশি সময় আগে। সেবার ইংল্যান্ডের মাটিতে পর পর দুটি টেস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে করেছিলেন সেঞ্চুরি। গ্রীষ্মেও শুরুতে ইংলিশ কন্ডিশনে এমন পারফরম্যান্সের জন্য উইজডেনের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন এই তারকা। এরপর দীর্ঘ একটা বিরতির পর এবার রেকর্ড গড়ে করলেন সেঞ্চুরি।