বাংলাদেশ-কানাডার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির ধারাকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কানাডা সব সময়ের মতোই বাংলাদেশের পাশে থাকবে। কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পলিসি স্টাডিসের ‘কুইন্স ডেভলপমেন্ট ইন্সটিটিউট-২০১৪’ আয়োজিত এক সেমিনারে কানাডা সরকারের উপ-মন্ত্রী এবং কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পলিসি স্টাডিস-এর ফেলো ও প্রকল্প পরিচালক মার্গারেট বিগ্স এ কথা বলেন।
সেমিনারে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার কামরুল আহসান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ দু'য়ের মাধ্যমেই আগামী দশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রটি। এ সেমিনারে "Making Trade Work for Development : Challenges and Opportunities" শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে হাই কমিশনার ১৯৭১ সালে অর্জিত মহান স্বাধীনতার পর হতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থেনৈতিক অগ্রগতির ক্রমধারা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের উদার ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা, শিল্প-বাণিজ্য উদ্যোক্তাবৃন্দের একনিষ্ঠ প্রয়াস ও সক্ষমতা আর মেহনতী শ্রমগোষ্ঠীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষতঃ তৈরি পোশাক খাত আজ এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় সহশ্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর পর সরকার গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমুখী ও কল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা সেমিনারে আগত কানাডার অগ্রগণ্য বুদ্ধিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সরকারি নীতি নির্ধারকগণের সামনে তুলে ধরেন তিনি। রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেমের অভিবাসী শ্রমিক জনগোষ্ঠী প্রেরিত বিপুল রেমিট্যান্ট, সম্প্রসারণশীল ঔষধ শিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের সাফল্যের বিষয়ও তার আলোচনায় উঠে আসে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি কানাডার অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন এবং স্বাধীনতার অব্যাবহিত পর হতেই কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা 'সিডা' বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে সেজন্য কানাডার সরকার ও জনগণকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন হাই কমিশনার।
সম্প্রতি কানাডায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা বা জিএসপি (যা কানাডায় 'জিপিটি' নামে পরিচিত) সুরক্ষার জন্য কানাডার পার্লামেন্ট, সরকার এবং পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহনকারীগণের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন হাই কমিশনার।
অনুষ্ঠানে কানাডার পররাষ্ট্র বিভাগের উর্দ্ধতন কূটনীতিক রবার্ট উলফ এবং বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) দেওয়ান মাহমুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।