রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের মিছিলে বাধা দেয়ায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর হেতেমখাঁ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার ছুড়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন খন্দকার জানান, সকালে হরতালের সমর্থনে জামায়াত মহানগর সহকারী সেক্রেটারি এমাজ উদ্দিন মন্ডলের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে। খবর পেয়ে পুলিশ রাজারহাতা এলাকায় অবস্থান নিলে জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এনিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে এতে কেউ আহত হয়নি। এর আগে ভোর সাড়ে ৬টায় ভদ্রা স্মৃতি অম্লান মোড়ে সড়কে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তোপের মুখে হরতাল সমর্থকরা কোথাও টিকতে পারেনি।
এদিকে পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী জানান, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ জামায়াত-শিবির সন্দেহে ২৭ জনকে আটক করেছে। হরতালে নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি তত্পর রয়েছে।
তৃতীয় দফায় ৪৮ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবারও রাজশাহীর জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক ছিল। ট্রেন ও হালকা যানবাহন চলাচল করেছে। অধিকাংশ বিপণীবিতান ও দোকানপাট খোলা ছিল। আন্তঃজেলা বাস চলেছে। তবে নিরাপত্তার অভাবে দূরপাল্লার বাস-ট্রাক চলেনি।