বরিশাল এলজিইডিতে দরপত্র জমা দিতে ছাত্রলীগের বাধা

উপকূলীয় জলবায়ু স্থিতিস্থাপক (সিসিআরআইপি) প্রকল্পের ২০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে (এলজিইডি) গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাব-পুলিশের সামনেই ঠিকাদারদের মারধর করে দরপত্র ও পে-অর্ডার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ানের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়

যুবলীগ নেতা ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম টিটু অভিযোগ করেন, সিসিআরআইপি প্রকল্পের আট গ্রুপের প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজের দরপত্র জমা দেয়ার সর্বশেষ সময় ছিল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সেখানে ক্যাডার বাহিনী পাহারা বসায়। কাউকে এলজিইডিতে ঢুকতে দেয়নি। তিনি জানান, তিনি নিজে সজীব এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সে তিন গ্রুপের কাজের দরপত্র জমা দিতে যান। দরপত্র বাক্সে ফেলার পূর্বেই ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের নেতৃত্বে ক্যাডার মিলন ও কাননসহ অজ্ঞাতরা এসে তার ১৫ হাজার টাকার দরপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় তারা টিটুর সাড়ে ১২ লাখ টাকার পে-অর্ডার ছিনিয়ে নেয় বলে টিটু অভিযোগ করেন। ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় কবির ও চুন্নু নামের আরো দুই ঠিকাদার আহত হন। পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের মারধর করে পে-অর্ডার ছিনতাই ও দরপত্র ছিঁড়ে ফেলা হয়। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, দরপত্র জমা দিতে একপক্ষ আরেক পক্ষকে বাধা দিয়েছে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের  মধ্যে সামান্য হাতাহাতি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ওসি দাবি করেন, পুলিশের সামনে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
দরপত্র জমা দানে বাধা ও ঠিকাদারদের মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করে জসীমউদ্দীন বলেন, আমি দরপত্র ছিনিয়ে নেইনি, ছাড়িয়ে দিয়েছি।
অসীম দেওয়ান বলেন, দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র  করে ঠিকাদারদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। দরপত্র জমাদানে কেউ কাউকে বাধা দেয়নি।

নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, এলজিইডি ভবনের  বাইরে কী হয়েছে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। দরপত্র নিয়ে আসার সময় রাস্তায় কেউ কাউকে বাধা দিলে আমাদের করার কী আছে। এটা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। তবে ভেতরে ঠিকাদাররা দরপত্র জমা দিয়েছেন। অফিসের অভ্যন্তরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করেন।