সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের বীরকুলি গ্রামে গতকাল শনিবার ভোরে একটি জলমহালের দখলে বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় মনাফ বাহিনী। এসময় মনাফ বাহিনী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। বেঁধে যায় পুলিশ ও মনাফ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ। এ ঘটনায় ১৩ পুলিশসহ আহত হয়েছেন ১৯ জন। পুলিশ দুই নারীসহ চার জনকে আটক করেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মনাফকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে দেড়শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে এসআই খায়রুল বাশার গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল মনাফের নেতৃত্বে তার বাহিনী শুক্রবার গভীর রাতে থুবরী শিলচান গ্রুপ জলমহালটি অবৈধ দখলের প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল হাই শতাধিক পুলিশ নিয়ে শনিবার ভোরে বীরকুলি গ্রামে অভিযান চালান। এ সময় মনাফ বাহিনী পুলিশের ওপর হামলা চালালে সেখানে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ৭৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়ে। মনাফ বাহিনীও পাল্টা গুলি ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর। এতে গোয়াইনঘাট থানার ওসি রুহুল আমিন, এসআই খায়রুল বাশার, এসআই হাবিবুর রহমান, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই জাকির হোসেন, এসআই আব্দুল হাদি, এএসআই রবিউল, এএসআই দুলালসহ ১৩ জন পুলিশ ও মনাফ বাহিনীর ৬ জন সদস্য আহত হন। তাদেরকে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। আটককৃতরা হচ্ছে মনির উদ্দিন (৪০), কামাল উদ্দিন (১৬), নাজমা বেগম (২৮), ছালেহা খাতুন (২৬)।
পুলিশ জানায়, বীরকুলি গ্রামের আব্দুল মনাফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। পুলিশ আরো জানায়, প্রভাতী মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক তীর্থ রঞ্জন দাসের দায়েরকৃত একটি চাঁদাবাজি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ভোরে অভিযান চালানো হয়।