কুমিল্লায় পুলিশের সাথে ‘সন্ত্রাসীদের’ গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে রাব্বী ও জনি নামের দুই ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। এসময় পুলিশের দুই এসআই ও একজন ‘সন্ত্রাসী’সহ ৩ জন আহত হয়েছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এসময় ছিনিয়ে নেয়া একটি পিস্তল ছাড়াও আরো দুটি বিদেশি পিস্তলসহ সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় ওই এলাকায় চরম আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. খোরশেদ আলম।
পুলিশ জানায়, নগরীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, ছিনতাইসহ গুরুতর বিভিন্ন অপরাধের ২১টি মামলার পলাতক আসামি বেলাল ওরফে বড় সুমন ওরফে জিরা সুমনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ঝাউতলা এলাকায় ডিবি’র এসআই ফিরোজ হোসেনকে গুলি করে ও কুপিয়ে আহত করে তার ৮ রাউন্ড গুলিভর্তি ৭.৬২ বোরের সরকারি পিস্তলটি লুটে নেয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় নগরীর কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সামছুদ্দিন চৌধুরী বাদী হয়ে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অশোকতলা ছায়াবিতান এলাকার শাহজাহান ওরফে সাজুর পুত্র বেলাল ওরফে বড় সুমন ওরফে জিরা সুমন (২৮), দৌলতপুরের বাবুল ইসলামের পুত্র রাব্বী (২৫), অশোকতলার মৃত কালু মিয়ার পুত্র জনি (২৫), ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চোব্বাশ গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার পুত্র সবুজকে (২৫) আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে জেলা পুলিশের ২৪টি টিম লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে।
রবিবার জেলা ডিবি’র ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম, এসআই ইকবাল বাহার, এসআই শাহ কামাল আকন্দ, এসআই সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় অবস্থান নেয়। দুটি মোটরসাইকেলযোগে ছয় জনের সন্ত্রাসী দল জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ঢাকা অভিমুখে যাওয়ার পথে আলেখারচর এলাকায় পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দেয়।
পুলিশ জানায়, এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করতে থাকলে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। গুলিবিনিময়ের ঘটনায় সন্ত্রাসী রাব্বী, জনি ও ফেনী সদরের উত্তর বিরিঞ্চি গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র শাহাদাত হোসেন ওরফে দুলাল (২০) আহত হয়। আহত সন্ত্রাসী রাব্বীকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়। গুলিবিদ্ধ আহত অপর সন্ত্রাসী জনি ওই হাসপাতালের কারা ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মারা যায়। এছাড়া এ ঘটনায় আহত ডিবি’র এসআই সহিদুল ইসলাম, এএসআই নজরুল ইসলামকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রীদের ব্যবহূত একটি মোটর সাইকেল, ৩টি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে এবং অপর সন্ত্রাসীরা মোটর সাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।
জেলার পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী এক প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, বৃহস্পতিবার লুণ্ঠিত পিস্তলটি নিহত সন্ত্রাসী রাব্বীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক সন্ত্রাসী বেলাল ওরফে বড় সুমন ওরফে জিরা সুমনসহ তার সঙ্গীদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান চলছে।