শরণখোলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষতি

শরণখোলায় সোমবার ভোর রাতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়, প্রবল বর্ষণ ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ ঝড়বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

উপজেলার সাউদখালী ইউনিয়নের শরণখোলা খুড়িয়াখালী গ্রামের রাসেল বয়াতী জানান, ‘সোমবার ভোরে হঠাৎ করে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের গ্রামে তার নিজের ঘরসহ অনেক ঘরবাড়ির চালা ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে।’

উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলাম শেখ জানান, ‘স্থানীয় মৌরাশী বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানের টিনের চালা উড়ে গেছে। তাছাড়া কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু গাছপালা উপড়ে পড়েছে।’

মালিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক গৌরাঙ্গ মিত্র জানান, তার ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। তাছাড়া, সাউথখালী ইউনিয়নের বগী বন্দর, তেরাবাকা বাজার সহ আশেপাশে গ্রামের দোকান ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে তাদের দোকান ঘরের চালা উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিতে মালামাল ভিজে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের সময় বজ্রপাতে অনেক গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘বর্তমানে মাঠে ব্রি- ৫৮, ৪৭, ৬৭, ৭৪ এবং বিনা- ৮ ও ১০ জাতের উচ্চ ফলনশীল (উফশি) ধান, আলু, কলাই (খেসাড়ি) ও গম রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর হঠাৎ বৃষ্টি চাষীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এতে ফসলের  উপকার হবে।’ 

শরণখোলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো. খায়রুল আলম বলেন, ‘ঝড়ে উপজেলার রাজৈর এলাকায় ট্রান্সফর্মারের ওপর গাছ পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া, আরো ৩০/৪০ টি স্পটে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে। বেশ কয়েকটি খুঁটি হেলে পড়েছে। উপজেলার সদরের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গ্রামাঞ্চলে দিতে একটু সময় লাগবে।’ 

আরও পড়ুনঃ কুষ্টিয়ায় ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, ‘ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় কেউ যাতে বাইরে না থাকে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে সরকারের তরফ থেকে সহায়তা প্রদান করা হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু