রংপুরে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

 
 
রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ৭২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ধর্মঘট ডাকার ১২ ঘণ্টার মাথায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগীয় শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এমএ মজিদ এই ঘোষণা দেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৬৫টি রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেল।
 
উল্লেখ্য, রংপুর জেলা পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও মহানগর যুবলীগ নেতা ইমরান আলীর (৩৫) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা মঙ্গলবার সকালে রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ ও তার ভাবি পৌর কাউন্সিলর ফরিদা কালামের বাড়ি, জেলা পিকআপ মালিক সমিতি কার্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়নের সাতমাথা শাখা কার্যালয় ভাংচুর করে। এ সময় তারা তিনটি মিনিবাস, তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কারে অগ্নিসংযোগ করে। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও ভাংচুরের শিকার হয়। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাতমাথা এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করলে লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের সঙ্গে রংপুর ও ঢাকাসহ সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৬৫টি রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়। পরে বিকেলে অপর এক সংবাদ সম্মেলনে আলটিমেটাম দিয়ে ৭২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়।
 
ঐ হামলার ঘটনায় সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে ২০ জন। এ সময় কিছু সুযোগ সন্ধানী দুর্বৃত্ত চ্যানেল আইয়ের স্টাফ ক্যামেরা পারসন এহসানুল হক সুমনকে মারধর করে ক্যামেরা, টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া দৈনিক যুগান্তরের আলোকচিত্রী সাহিদুর রহমান সাহিদের মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। সন্ত্রাসীরা বৈশাখী টেলিভিশনের রংপুর প্রতিনিধি আফতাব হোসেনের চড়াও হয়। পরে তারা এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের রংপুর প্রতিনিধি মাহবুবুল ইসলামকে ধাওয়া করে।
ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের কারণে সাতমাথা এলাকায় সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। সেখানে থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
 
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক পিপিএম জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুরো পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে ইমরান আলী মহানগরীর সাতমাথা এলাকায় গেলে একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে ইমরানের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঐ ভাংচুর চালায়।
নিহত ইমরান মহানগরীর সাতমাথা মাহিগঞ্জের বীরভদ্র বালাটারী এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে এবং জেলা পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি যুবলীগ মহানগর কমিটির সদস্য ও ৩০নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।
 
পুলিশ জানায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পিকআপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে জেলা পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক ইমরান আলীর বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।